সদস্যপদ স্থগিতের পর ২৫ মিনিটের লাইভে তানজিন তিশা, বললেন ‘সবকিছু সামনে আসবে’

শুটিং সেটে বিরোধ, মারধরের অভিযোগ এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ। সংগঠনের এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তানজিন তিশা। প্রায় ২৫ মিনিটের লাইভে গত আট মাসের নানা ঘটনা, শুটিং সেটের বিরোধ এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।

অভিনয়শিল্পী সংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর পৃথক চিঠির মাধ্যমে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈকে তাদের সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। তবে গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে দুই অভিনেত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কেউই ওই নোটিশের জবাব দেননি। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় তাদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর ফেসবুক লাইভে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তানজিন তিশা। এ সময় সহকর্মীদের মধ্যে পেশাগত কারণে মতবিরোধ তৈরি হওয়াকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সেই বিরোধকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কাউকে ছোট করা বা তার পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়টি সমর্থন করেন না বলে জানান অভিনেত্রী।
গত কয়েক মাসে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিশা। বিশেষ করে আলোচিত ‘শাড়িকাণ্ড’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শাড়িকাণ্ডসহ অনেক কিছু দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’
ফেসবুক লাইভে তানজিন তিশা গত মার্চে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং সেটে সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিরোধের বিষয়টিও বিস্তারিত তুলে ধরেন। ওই ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, সেদিন শুটিং সেটে কী ঘটেছিল, তা সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ করেছেন। নাটকের সংশ্লিষ্ট দৃশ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিশা বলেন, দৃশ্যটি দেখলেই বোঝা যাবে কে কীভাবে অভিনয় করেছেন এবং কে ইম্প্রোভাইজ করেছেন। একই সঙ্গে নির্যাতনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটির সত্যতা সম্পর্কেও দর্শকেরা দৃশ্যটি দেখে ধারণা পাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেত্রী জানান, শুটিং সেটের ঘটনার পর বিষয়টি সমাধানের জন্য অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয় এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের লিখিত নোটিশ এখনো তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিশা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সালিশ বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে দুই পক্ষকেই নিজেদের অবস্থান থেকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি একটি ভিডিও বার্তা পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে সামিয়া অথৈ সেই ভিডিও বার্তা পাঠাননি বলে দাবি করেন তিশা। অন্যদিকে, বিশেষ কিছু কারণে তিনিও নির্ধারিত ভিডিও বার্তা পাঠাতে পারেননি বলে লাইভে উল্লেখ করেন।
অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত এবং তানজিন তিশার ফেসবুক লাইভের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার বিরোধ, শুটিং সেটের ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং সংগঠনের সালিশি সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তানজিন তিশার বক্তব্যের পাশাপাশি সামিয়া অথৈ ও অভিনয়শিল্পী সংঘের বিস্তারিত অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



