‘রেডি হও জামায়াত, পাকিস্তানই তোমাদের উপযুক্ত জায়গা’: পাপিয়া

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি কখনো বাংলাদেশের মূলধারার নায়ক হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, পাকিস্তানই তাদের উপযুক্ত জায়গা। তাই নিজেদের বোর্ডিং পাস প্রস্তুত রাখার কথাও বলেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন পাপিয়া।
বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের এ দেশের মূলধারার নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ এখন তাঁদের পক্ষ থেকে বোর্ডিং পাস, লন্ডন ভ্রমণ কিংবা ভিসার হিসাব দেখানোর কথা বলা হচ্ছে। এমন বক্তব্যের জবাবে পাপিয়া বলেন, ‘আমাদের বোর্ডিং পাস, লন্ডন ভ্রমণ কিংবা ভিসার খতিয়ান দেখানোর কথা বলা হচ্ছে। আমিও স্পষ্ট করে বলতে চাই—রেডি হও জামায়াতে ইসলামী, পাকিস্তানই তোমাদের উপযুক্ত জায়গা। তোমাদের পাকিস্তানেই পাঠাতে হবে। নিজেদের বোর্ডিং পাস ঠিক করো।’
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের এ দেশে স্থান হতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মকে বাদ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক বাস্তবতা তৈরি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ হারুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. নজরুল ইসলাম।
সমাবেশে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক তোসিকুল ইসলাম তসি, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তোবিউল ইসলাম তারিফ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জামিউল হোসেন সোহেল এবং বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম মতি, ময়েজ উদ্দিন ও সামিউল ইসলাম পলাশসহ আরও অনেকে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা দলীয় অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন। সমাবেশে পাপিয়ার জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যটি উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।



