৬ নভেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বিবিধ

আত্মহ’ত্যা করতে গিয়ে কুমিরের মুখে, দেখেই নারীর চিৎকার!

532031d4a17966f264ea5ebbe84bc89f-6aed7f25d3daa

জীবনের সব সমস্যার অবসান ঘটাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু পানিতে পড়ার পরই সামনে আসে আরও ভয়ংকর বিপদ। একটি বিশাল কুমির তাঁকে আক্রমণ করে কামড়ে দেয়। মুহূর্তেই বদলে যায় তাঁর মানসিক অবস্থা। মৃত্যুর পরিবর্তে বাঁচার জন্য প্রাণপণে চিৎকার শুরু করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তৎপরতায় কুমিরের আক্রমণ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় তাঁকে।

ঘটনাটি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ কন্নড় জেলার কুক্কে সুব্রহ্মণ্য এলাকার। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) গভীর রাতে কুমারধারা নদীর সেতুর নিচে ঘটে যায় এই ভয়াবহ ঘটনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই নারী। একপর্যায়ে হতাশা চরমে পৌঁছালে রাতে কুমারধারা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি।

কিন্তু নদীতে পড়ার পরই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পানির মধ্যে একটি বড় কুমির তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং শরীরের একাংশে কামড় বসায়। কুমিরের আক্রমণে আহত হয়ে আতঙ্কিত নারী তখন প্রাণ বাঁচানোর জন্য চিৎকার করতে থাকেন।

গভীর রাতে নদীর পাশের একটি স্থানীয় লজের কর্মচারীরা ওই নারীর চিৎকার শুনতে পান। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে নদীর পানিতে তাঁকে বিপদের মধ্যে দেখতে পান তাঁরা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দ্রুত সুব্রহ্মণ্য থানায় খবর দেওয়া হয়।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা। একপর্যায়ে কুমিরের আক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই ওই নারীকে পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন তাঁরা।

Advertisements

উদ্ধারের পরপরই আহত নারীকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মানসিক কাউন্সেলিংয়ের পর তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ওই নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুলিশ তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক সংকটে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষকে একা ফেলে রাখা উচিত নয়। অনেক সময় গভীর হতাশার মুহূর্তে একজন মানুষের প্রয়োজন হয় নির্ভরযোগ্য কারও সঙ্গে কথা বলা, মানসিক সমর্থন পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় পেশাদার সহায়তা নেওয়া।

একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রাণে বেঁচে ফেরা এই নারীর জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক পুনরুদ্ধার এবং নিরাপদ পরিবেশে পরিবারের সমর্থন পাওয়া।

Advertisements