হ্যালোইনে উপভোগ করতে পারেন যেসব হরর সিনেমা ও সিরিজ

হ্যালোইন মানেই ভৌতিক আবহ, গা ছমছমে পরিবেশ আর ভয় ধরানো সব গল্প। প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে উদ্যাপিত হয় হ্যালোইন। এ সময় ভূত, প্রেতাত্মা ও অতিপ্রাকৃত নানা চরিত্রের সাজে মেতে ওঠেন অনেকে।
তাই এমন আমেজে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে পারে একগুচ্ছ হরর সিনেমা। একা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে ভৌতিক সিনেমা দেখার পরিকল্পনা থাকলে ওয়াচলিস্টে রাখতে পারেন এই সিনেমাগুলো।
১. ‘হ্যালোইন’
হ্যালোইন উপলক্ষে ওয়াচলিস্টের প্রথম ক্যাটাগরি হতে পারে হ্যালোইনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই হরর সিনেমাগুলো। তার মধ্যে একটি ‘হ্যালোইন’। ১৯৭৮ সালে জন কার্পেন্টার নির্মিত এই সিনেমাটিকে হরর সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী হিসেবে ধরা হয়।

১৯৬৩ সালের হ্যালোইনের রাতে, মাত্র ছয় বছর বয়সে নিজের কিশোরী বোনকে হত্যা করে মাইকেল মায়ার্স। এরপর তাকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফিরে এসে চালাতে থাকে একের পর হত্যাকাণ্ড। এভাবেই নেওয়া হয়েছে সিনেমার গল্প।
২. ‘হ্যালোইন থ্রি’
টমি লি ওয়ালেস নির্মিত এই সিনেমা মুক্তি পায় ১৯৮২ সালে। তবে হ্যালোইন সিরিজের তৃতীয় সিনেমা হলেও এর গল্পে নেই মুখোশধারী খুনি মাইকেল মায়ার্স। একটি খেলনা প্রস্তুতকারক কোম্পানির মালিক হ্যালোউইন মুখোশের আড়ালে লাখ লাখ শিশুকে হত্যার এক ভয়ঙ্কর এবং জাদুকরী ষড়যন্ত্র করে। এক ডাক্তার ও এক তরুণী মিলে মুখোশগুলোর পেছনের এই রহস্যময় ও অতিপ্রাকৃতিক রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করে।

৩. ‘মহাকাল’
হিন্দি হরর সিনেমার জগতে শ্যাম রামসে ও তুলসী রামসে (রামসে ব্রাদার্স) নির্মিত এই সিনেমা ১৯৯৪ সালে বেশ সাড়া পেয়েছিল। এর মূল আকর্ষণ ভয়ংকর খলচরিত্র শাকাল। মানুষের স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে আক্রমণ করতে পারে সে। কিন্তু ভয়টা আরও বাড়ে যখন দেখা যায়, স্বপ্নে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন ঘুম থেকে ওঠার পরও শরীরে থেকে যাচ্ছে। এমন অতিপ্রাকৃত গল্প নিয়েই এগিয়েছে সিনেমার গল্প।

৪. ‘হাউজ নো. থার্টিন’
পুরোনো দিনের ভৌতিক বাড়ি ও অশরীরী আত্মার গল্প যাদের পছন্দ, তাদের জন্য ‘হাউজ নো. থার্টিন’ হতে পারে ভালো পছন্দ। পরিচালক বেবির এই হিন্দি সিনেমাটি যদিও ভারতের তামিল হরর সিনেমা ‘পাথিমুনাম নাম্বার ভিদু’-এর রিমেক। এতে গল্পে একটি পরিবার নতুন বাড়িতে ওঠার পর থেকেই অদ্ভুত সব ঘটনার মুখোমুখি হতে থাকে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। বাড়িতে থাকা এক রহস্যময় নারী আত্মা পরিবারের সদস্যদের একের পর এক নিশানা করতে শুরু করে। এরপর সেই আত্মার পরিচয় ও অতীত ঘিরে তৈরি হয় নানা রহস্য।
৫. ‘ষ’ (পেট কাটা ষ)
চলচ্চিত্র না হলেও বাংলাদেশি হরর কনটেন্টের ওয়াচলিস্টে এই দুটি সিরিজ রাখা যেতে পারে। ‘পেট কাটা ষ’ (২০২২) ও এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘২ষ’। ছোটবেলায় শোনা প্রচলিত ভূতের গল্প ও লোককথাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি হয়েছিল এর প্রথম কিস্তি। এরপর ‘২ষ’-এ উঠে এসেছে মানুষের মনের ভয়, অপরাধবোধ ও অতিপ্রাকৃত নানা ঘটনা। নূহাশ হুমায়ূনের নির্মাণে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি দেশি হরর কন্টেন্টে অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।

৬. চক্র

২০০৭ সালে ময়মনসিংহে এক পরিবারের নয় সদস্যের ট্রেনের নিচে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে সিরিজটি। তবে এটি ওই ঘটনার সরাসরি পুনর্নির্মাণ নয়, বরং বাস্তব ঘটনার প্রেরণায় নির্মিত কাল্পনিক গল্প। নির্মাণ করেছেন ভিকি জাহেদ। হ্যালোইনের সঙ্গে সিরিজটির কোনো সম্পর্ক না থাকলেও এই সিরিজ এখনও যারা দেখেননি, তারা এই আবহে দেখে নিতে পারেন। এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘চক্র ২’ ও মুক্তি পেয়েছে।



