৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বিনোদন

‘মা হয়েছি বলে যদি কাজের সুযোগ হারাতে হয়, সেটা খুব খারাপ লাগবে’: পরিণীতি চোপড়া

IMG_7037

মা হওয়ার পর বদলে গেছে বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার জীবনের অনেক হিসাব। এখন তাঁর পরিকল্পনার বড় অংশজুড়েই থাকে ছোট্ট ছেলে নীর। তবে মাতৃত্বকে অভিনয়জীবনের পথে বাধা হিসেবে দেখতে নারাজ এই অভিনেত্রী। বরং সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলে আরও ভালো কাজ করতে চান তিনি। একই সঙ্গে সন্তান লালন-পালন থেকে শুরু করে ব্যস্ত জীবনের নানা বিষয়ে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতাও পাচ্ছেন পরিণীতি।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ে নেটফ্লিক্সের কার্যালয়ে প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের নতুন সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’, মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা, অভিনয়জীবন এবং স্বামীর সঙ্গে সংসার নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

চিত্রনাট্য পড়েই সিদ্ধান্ত, অভিনয় করতেই হবে

‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ সিরিজের চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পরের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে পরিণীতি বলেন, তিনি প্রচুর বই পড়েন। তবে চিত্রনাট্য পড়ার সময় মাঝেমধ্যে মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায় বলে সাধারণত কাউকে পড়ে শোনাতে বলেন। কিন্তু এই সিরিজের চিত্রনাট্য তাঁকে এতটাই আকৃষ্ট করেছিল যে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় এক বসায় পুরোটা পড়ে শেষ করেন তিনি।

পরিণীতির ভাষ্য, চিত্রনাট্য শেষ করার পরই তাঁর মনে হয়েছিল, এই সিরিজে অভিনয় করতেই হবে। গল্পের পাশাপাশি নির্মাতা রেনসিল ডি’সিলভা, প্রযোজক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা এবং নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কাজের সুযোগও তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং, পাশে ছিল পুরো পরিবার

Advertisements

সিরিজটির শুটিংয়ের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন পরিণীতি। জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়েছিল পুরো শুটিং ইউনিটের সহযোগিতায়। অভিনেত্রীর কথায়, সবাই তাঁর বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে বাড়তি চাপ ছাড়াই কাজ করা সম্ভব হয়েছে।

সেই সময় পরিবারের সদস্যরাও তাঁর পাশে ছিলেন। বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে পরিণীতি জানান, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর শোনার পরই রাঘব শিমলায় ছুটে এসেছিলেন। তাঁর মা, শাশুড়ি ও ভাইয়েরাও তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন।

সিরিজটির সঙ্গে মাতৃত্বের স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে পরিণীতির। মজা করে তিনি বলতেন, এটি যেমন তাঁর ছেলে নীরের অভিষেক, তেমনি ওয়েব দুনিয়ায় তাঁর নিজেরও অভিষেক। এ কারণেই কাজটি তাঁর কাছে সব সময় বিশেষ হয়ে থাকবে।

‘মা হয়েছি বলে কাজ করা বন্ধ করে দিতে চাই না’

মাতৃত্বের পর অভিনয়জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবলেও কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই পরিণীতির। বরং সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অভিনেত্রীদের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁকে ভাবায়।

এ প্রসঙ্গে পরিণীতি বলেন, মা হয়েছেন বলে তিনি অভিনয় বন্ধ করতে চান না। তবে কাজের সুযোগ পাওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো বড় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর শুধু মা হওয়ার কারণে যদি কাজের সুযোগ হারাতে হয়, তাহলে তাঁর খারাপ লাগবে।

বলিউডে মাতৃত্বের পরও নিয়মিত কাজ করে যাওয়া অভিনেত্রীদের পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন ও তাঁর দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার উদাহরণ টেনে পরিণীতি জানান, তাঁদের প্রজন্মের অভিনেত্রীরা মা হওয়ার পরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, তাঁরা এখন বরং আরও ভালো কাজ করছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু, ঘোরাঘুরি, ছুটি কাটানো এবং নিজের জন্য সময় রাখাকেও সমান গুরুত্ব দেন পরিণীতি। তবে মা হওয়ার পর জীবনের এই ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি নতুনভাবে সামলাতে হচ্ছে তাঁকে।

ছেলের দায়িত্ব ৫০-৫০ ভাগ করে নিয়েছেন পরিণীতি-রাঘব

রাজনীতিবিদ স্বামী রাঘব চাড্ডার ব্যস্ততার সঙ্গে নিজের অভিনয়জীবন সামলে ছোট্ট ছেলেকে কীভাবে সময় দেন পরিণীতি? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানান, সন্তানের দায়িত্ব তাঁরা দুজন সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন।

পরিণীতির কথায়, তাঁরা দুজনেই মা-বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্বও দুজনের। তিনি কাজে থাকলে রাঘব ছেলের সঙ্গে সময় কাটান, আবার রাঘব ব্যস্ত থাকলে পরিণীতি সন্তানের দায়িত্ব নেন।

কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও স্বামীর কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পান বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এমন অনেক দিন যায়, যখন কাজের পর একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তখন রাঘব তাঁকে আশ্বস্ত করেন, তিনি যেন নিশ্চিন্তে কাজে যান, বাকি সবকিছু সামলে নেবেন তিনি। স্বামীর এই সমর্থনকে নিজের কাছে অনেক বড় পাওয়া বলে মনে করেন পরিণীতি।

রাজনীতি আর সিনেমা নিয়ে একে অপরকে পরামর্শ দেন না তাঁরা!

পেশাগতভাবে পরিণীতি ও রাঘবের জগৎ একেবারেই আলাদা। একজন অভিনয়ের দুনিয়ায় ব্যস্ত, অন্যজন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সংসারে ভালো বোঝাপড়া থাকলেও পেশাগত বিষয়ে একে অপরকে খুব একটা পরামর্শ দেন না তাঁরা।

পরিণীতি মজার ছলে জানান, রাঘবের সংসদীয় বক্তৃতা কিংবা নির্বাচন সম্পর্কে তাঁর তেমন ধারণা নেই। তাই এসব বিষয়ে স্বামীকে পরামর্শ দেওয়ার প্রশ্নও আসে না। একইভাবে সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়েও রাঘবের কাছ থেকে পরামর্শ না নেওয়াই ভালো বলে মনে করেন তিনি।

স্বামীর সিনেমা সম্পর্কে সীমিত ধারণার উদাহরণ দিতে গিয়ে পরিণীতি বলেন, কখনো কোথাও তাঁর নিজের গান বাজলেও সেটি যে তাঁর গান, তা রাঘবকে আলাদা করে জানাতে হয়েছে তাঁকে।

হাসতে হাসতে অভিনেত্রী জানান, কাজের ক্ষেত্রে একে অপরের জগৎ থেকে দূরে থাকাই তাঁদের জন্য ভালো। তবে পেশাগত জগৎ আলাদা হলেও সংসার ও সন্তান সামলানোর ক্ষেত্রে দুজনের পারস্পরিক সহযোগিতাই এখন তাঁদের জীবনের অন্যতম শক্তি।

Advertisements