ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে হলুদ নাকি বেসন, কোনটি বেশি উপকারী?

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে অনেকেই ঘরোয়া উপাদান হিসেবে হলুদ ও বেসন ব্যবহার করেন। কেউ ত্বক পরিষ্কার রাখতে বেসনের ওপর ভরসা করেন, আবার কেউ ব্রণ ও কালো দাগ কমানোর আশায় ব্যবহার করেন হলুদ। তবে ত্বকের ধরন ও সমস্যার ওপর নির্ভর করে এই দুই উপাদানের কার্যকারিতা ভিন্ন হতে পারে।
বেসনের উপকারিতা
বেসন ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে এবং ত্বকের উপরিভাগের ময়লা দূর করতে সাহায্য করতে পারে। এর সূক্ষ্ম দানাদার গঠন ত্বকের মৃত কোষ অপসারণেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ত্বক সাময়িকভাবে পরিষ্কার ও মসৃণ দেখাতে পারে।
বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে বেসন ব্যবহার করে উপকার পেতে পারেন কেউ কেউ। তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। বেসন ব্যবহার করলেই ত্বকের কালো দাগ দূর হবে বা স্থায়ীভাবে উজ্জ্বলতা বাড়বে, এমন প্রমাণ নেই।
হলুদের উপকারিতা
হলুদে কারকিউমিন নামের একটি উপাদান রয়েছে, যার প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এ কারণে ত্বকের প্রদাহ কমানোর ক্ষেত্রে হলুদের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।
তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে হলুদ ব্যবহার করলে ব্রণ, কালো দাগ বা পিগমেন্টেশন নিশ্চিতভাবে কমে যায়, এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কারও কারও ত্বকে হলুদ ব্যবহারে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এ ছাড়া হলুদ ত্বকে হলদেটে দাগও ফেলতে পারে।
কোনটি ব্যবহার করবেন?
ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তাহলে বেসন ব্যবহারে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত তেল কমানোর উপকার পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, হলুদের কিছু প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্য থাকলেও ব্রণ বা কালো দাগ দূর করার নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা হিসেবে একে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে নিয়মিত মৃদু ক্লিনজার, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার এবং প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বেশি কার্যকর। বিশেষ করে কালো দাগ ও পিগমেন্টেশন কমাতে সানস্ক্রিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হলুদ ও বেসন দিয়ে ফেসপ্যাক
অনেকে হলুদ, বেসন ও টক দই মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করেন। তবে এই মিশ্রণ সবার ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। টক দইয়ের অম্লীয় উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন। ত্বকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘরোয়া উপাদানের ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



