২৭ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ১১ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

তুরস্কের যে জাদুঘরে সংগৃহীত আছে ১৬ হাজার নারীর চুল

images (35)

ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখতে মানুষ সাধারণত ছবি তোলেন কিংবা বিভিন্ন স্মারক সংগ্রহ করেন। তবে তুরস্কের ক্যাপাডোকিয়া অঞ্চলের আভানোস শহরে রয়েছে এমন এক জাদুঘর, যেখানে স্মৃতি হিসেবে রেখে যাওয়া হয় নিজের চুলের গোছা। ‘হেয়ার মিউজিয়াম’ নামের এই ব্যতিক্রমী সংগ্রহশালায় জমা হয়েছে ১৬ হাজারেরও বেশি নারীর চুল। চমকপ্রদ বিষয় হলো, এখানে চুল রেখে বার্ষিক লটারিতে জিতে নেওয়া যায় এক সপ্তাহের বিনা খরচের ছুটি।

সংগৃহীত

১৯৭৯ সালে মৃৎশিল্পী গালিপ কোরুকচুর কর্মশালায় এক ফরাসি নারী পর্যটকের আগমন ঘটে। ওই নারীর চুল দেখে গালিপ তার কাছে এক গোছা চুল চান। পর্যটকটি নিজের নাম ও ঠিকানা একটি কাগজে লিখে চুলের সঙ্গে কর্মশালার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখেন।

ছোট্ট এই ঘটনাই পরবর্তী সময়ে বড় একটি সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করে। গালিপের কর্মশালায় আসা অন্য নারী পর্যটকেরাও ধীরে ধীরে নিজেদের চুল রেখে যেতে শুরু করেন। এভাবেই গড়ে ওঠে চুলের ব্যতিক্রমী সংগ্রহ। একসময় এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও স্থান পায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাদুঘরের ভেতরে রয়েছে বিভিন্ন রঙের চুলের অসংখ্য গোছা। প্রতিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নাম ও যোগাযোগের তথ্য লেখা কাগজ। ফলে এটি শুধু চুলের সংগ্রহশালা নয়, বরং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নারীদের স্মৃতি ধরে রাখার এক বিচিত্র আয়োজন।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর আকাঙ্ক্ষা মঙ্গার প্রকাশিত ভিডিওতেও জাদুঘরের দেয়ালে সাজানো এই চুলের সংগ্রহ দেখা গেছে। প্রতিটি গোছা যেন কোনো পর্যটকের ভ্রমণ, পরিচয় কিংবা কর্মশালায় কাটানো সময়ের গল্প বহন করছে।

এই জাদুঘরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নারীদের মৃৎশিল্প শেখানোর একটি উদ্যোগ। আকাঙ্ক্ষা মঙ্গার পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে মৃৎশিল্পকে পুরুষদের কাজ হিসেবে দেখার প্রবণতা থাকায় নারীদের এ শিল্পে আগ্রহী করে তুলতে গালিপ বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেন।

Advertisements
সংগৃহীত

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, জাদুঘরে ১৬ হাজারের বেশি নারীর চুল সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতি বছর লটারির মাধ্যমে ১০ জন নারীকে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত নারীরা ক্যাপাডোকিয়ায় এক সপ্তাহ বিনা খরচে ছুটি কাটানোর পাশাপাশি গালিপের কাছ থেকে মৃৎশিল্প শেখার সুযোগ পান।

জাদুঘরে গিয়ে চুলের একটি গোছা রেখে আসার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে কাঁচি, কাগজ ও কলমও রাখা আছে। আগ্রহী নারীরা নিজেদের নাম ও যোগাযোগের তথ্য লিখে চুলের সঙ্গে জমা দিতে পারেন। এর মাধ্যমেই তাঁরা বার্ষিক লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে চুল রেখে যাওয়ার এই ব্যতিক্রমী রীতি আভানোসের জাদুঘরকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। ব্যক্তিগত স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নারীদের মৃৎশিল্প শেখার সুযোগ তৈরি করায় স্থানটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

Advertisements