ঘর সাজাতে বার বার খরচ নয়, একবার কিনে ব্যবহার করুন সারাবছর

উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অতিথি আপ্যায়ন—বিভিন্ন উপলক্ষে ঘর সাজানোর প্রয়োজন হয়। দুর্গাপূজা, দীপাবলি থেকে শুরু করে বড়দিন, নববর্ষ ও ঈদ—সারা বছরই কোনো না কোনো আয়োজন থাকে। প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য নতুন করে সাজসজ্জার সামগ্রী কিনলে খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি অনেক জিনিস পরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। তাই ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে এমন কিছু সামগ্রী বেছে নেওয়া ভালো, যা বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যবহার করা যায় এবং দৈনন্দিন অন্দরসজ্জার সঙ্গেও মানিয়ে যায়।

সঠিক রং, নকশা ও উপকরণের গৃহসজ্জার সামগ্রী ঘরের পরিবেশে সহজেই পরিবর্তন আনতে পারে। জেনে নিন, একবার কিনে রাখলে সারা বছর বিভিন্ন আয়োজনে কাজে লাগবে এমন ছয়টি জিনিসের কথা।
১. নকশাদার বাতিদান ও এলইডি মোমবাতি
ঘরের সাজে আলো শুধু উজ্জ্বলতা বাড়ায় না, তৈরি করে আলাদা আবহও। বসার ঘর, খাবার টেবিল কিংবা শোবার ঘরের এক কোণে সুন্দর একটি বাতিদান রাখলে সাধারণ সাজেও আসে আভিজাত্যের ছোঁয়া। পিতল, কাচ, কাঠ বা সিরামিকের বাতিদান ঘরের আসবাবের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন।
উৎসবের সময় এর সঙ্গে মোমবাতি ব্যবহার করলে পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়। আবার রোমান্টিক ডিনার কিংবা ঘরোয়া আড্ডাতেও একই সাজ মানিয়ে যায়। আগুনের ঝুঁকি কমাতে চাইলে এলইডি মোমবাতি বেছে নেওয়া যেতে পারে। এগুলো বারবার ব্যবহার করা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের অন্দরসজ্জার সঙ্গেও সহজে মানিয়ে যায়।
২. ফুলদানি ও কৃত্রিম ফুল
ঘরের সাজে সতেজতা আনতে ফুলের বিকল্প খুব কম। ডাইনিং টেবিল, সেন্টার টেবিল কিংবা প্রবেশপথের কনসোলে একটি সুন্দর ফুলদানি রাখলেই জায়গাটি হয়ে উঠতে পারে আরও প্রাণবন্ত। কাচ বা সিরামিকের সাধারণ নকশার ফুলদানি বেছে নিলে তা প্রায় সব ধরনের ঘরের সাজের সঙ্গেই মানানসই হবে।
বিশেষ অনুষ্ঠান অনুযায়ী ফুলের রং ও ধরন পরিবর্তন করে সাজে বৈচিত্র্য আনা যায়। বসন্তে হালকা রঙের ফুল, উৎসবে উজ্জ্বল রঙের ফুল কিংবা সাধারণ দিনে সাদা ফুল ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত টাটকা ফুল কেনা সম্ভব না হলে মানসম্মত কৃত্রিম ফুলও ভালো বিকল্প। এতে যত্নের ঝামেলা কমবে, অথচ ঘরের সৌন্দর্য বজায় থাকবে।
৩. সাজসজ্জার ট্রে ও পরিবেশনের বাসন
অতিথি আপ্যায়নের পাশাপাশি ঘর সাজাতেও কাজে লাগে শৌখিন ট্রে। কাঠ, ধাতু, কাচ কিংবা সিরামিকের ট্রেতে চায়ের কাপ, মিষ্টি ও হালকা খাবার পরিবেশন করা যায়। আবার কফি টেবিলে ট্রের ওপর সুগন্ধি মোমবাতি, ছোট ফুলদানি কিংবা কয়েকটি সাজসজ্জার সামগ্রী রাখলেও সুন্দর দেখায়।
এর সঙ্গে নকশাদার বাটি, কাচের জার ও পরিবেশনের বাসন কিনে রাখতে পারেন। উৎসবের সময় এগুলো দিয়ে খাবার টেবিল সাজানো যাবে, অন্যদিকে সাধারণ দিনেও অতিথি আপ্যায়নে কাজে লাগবে। কেনার আগে ঘরের আসবাবের রং ও ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করুন। এমন নকশা বেছে নেওয়াই ভালো, যা দেখতে সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী।
৪. নকশাদার ওয়াল প্লেট
ঘরের দেওয়াল ফাঁকা থাকলে অন্দরসজ্জা অনেক সময় অসম্পূর্ণ মনে হয়। সেই জায়গায় বড় ছবি বা দামি শিল্পকর্মের পরিবর্তে নকশাদার ওয়াল প্লেট ব্যবহার করা যেতে পারে। ফুলেল নকশা, জ্যামিতিক নকশা কিংবা ঐতিহ্যবাহী মোটিফের প্লেট দেওয়ালে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।
বসার ঘর বা খাবার ঘরের একটি নির্দিষ্ট দেওয়ালে কয়েকটি প্লেট পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে রাখতে পারেন। প্লেটগুলোর রং ও নকশায় সামঞ্জস্য থাকলে পুরো দেওয়ালটি দেখতে আরও গোছানো লাগবে। উৎসবের সময় এই সাজ ঘরের সৌন্দর্য বাড়াবে, আবার বছরের অন্যান্য সময়েও তা অন্দরসজ্জার অংশ হিসেবে রাখা যাবে। তবে কেনার সময় দেওয়ালে লাগানোর উপযুক্ত হুক ও নিরাপদ সংযুক্তির ব্যবস্থা আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
৫. টেবিল ল্যাম্প ও এলইডি স্ট্রিং লাইট
আসবাবপত্র পরিবর্তন না করেও আলোর ব্যবহার দিয়ে ঘরের চেহারা বদলে দেওয়া যায়। শোবার ঘরের পাশের টেবিলে একটি টেবিল ল্যাম্প, বসার ঘরের কোণে মৃদু আলো কিংবা তাকের পাশে উষ্ণ আলোর ব্যবস্থা ঘরকে আরও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।
উৎসবের সময় এলইডি স্ট্রিং লাইট ব্যবহার করে জানালা, বারান্দা বা পর্দার আশপাশ সাজানো যায়। বিশেষ কোনো উৎসবের জন্য তৈরি নকশার পরিবর্তে সাধারণ উষ্ণ আলো বেছে নিলে সারা বছরই তা ব্যবহার করা সম্ভব। কেনার সময় বিদ্যুৎ ব্যবহারের নিরাপত্তা, তারের মান এবং ঘরের আকারের সঙ্গে আলোর সামঞ্জস্যের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন।
৬. নকশাদার পাপোশ
ঘরে প্রবেশের সময় সবার আগে নজরে পড়ে দরজার সামনের অংশ। তাই প্রবেশপথের সাজও গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর নকশার একটি পাপোশ দরজার আশপাশকে পরিপাটি দেখানোর পাশাপাশি বাইরের ধুলোবালি ঘরে ঢোকা কমাতেও সাহায্য করে।
ঘরের দেয়াল, দরজা ও মেঝের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পাপোশ বেছে নিতে পারেন। উৎসবের জন্য লাল, সবুজ বা অন্য উজ্জ্বল রঙের পাপোশ আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে এমন নকশা বেছে নেওয়া ভালো, যা দৈনন্দিন ব্যবহারেও মানানসই। কেনার সময় সহজে পরিষ্কার করা যায় কি না, উপকরণ টেকসই কি না এবং নিচের অংশে পিছলে যাওয়া প্রতিরোধের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর দিন।
অল্প খরচে ঘরের সাজে নতুনত্ব আনবেন যেভাবে
ঘর সাজানোর জন্য প্রতিবার নতুন আসবাব বা অনেক সাজসজ্জার সামগ্রী কেনার প্রয়োজন নেই। বরং কয়েকটি বহুমুখী জিনিসের সঙ্গে কুশন কভার, টেবিল রানার ও পর্দার রং পরিবর্তন করে সহজেই নতুন পরিবেশ তৈরি করা যায়। একই ফুলদানি বা ট্রে একেক সময় একেকভাবে সাজালেও ঘরের চেহারায় পরিবর্তন আসবে।
কেনাকাটার আগে ঘরে আগে থেকেই কী কী আছে, তা দেখে নিন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী এমন জিনিস কিনুন, যেগুলো একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমবে, ঘর থাকবে গোছানো এবং বছরের প্রতিটি উৎসবেই পরিচিত ঘরকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ মিলবে।



