দাফন বা দাহ নয়, মৃত্যুর পর নিজের দেহ দিয়ে জৈবসার তৈরি করতে চান কিম নোভাক

হলিউডের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী কিম নোভাক মৃত্যুর পরও প্রকৃতির মাঝে বেঁচে থাকতে চান। ৯৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী প্রচলিত দাফন কিংবা দাহের পরিবর্তে নিজের মৃতদেহকে জৈবসারে পরিণত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সেই সার ব্যবহার করে গাছ লাগানো হবে, আর গাছের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির মাঝে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চান তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যতিক্রমী এই পরিকল্পনার কথা জানান কিম নোভাক। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেই মৃত্যুর পর তার দেহকে জৈবসারে রূপান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
নিজের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, মৃত্যুর পরও গাছের মাধ্যমে বেঁচে থাকার ধারণাটি তাঁর কাছে রোমাঞ্চকর। তিনি মনে করেন, এটি যেন এক নতুন অভিযানের মতো, যার মধ্য দিয়ে মৃত্যুর পরও জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
কিম নোভাক বলেন, ‘ভাবনাটা হলো, আমি চলে যাওয়ার পরও গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে পারব। বিষয়টি আমার কাছে রোমাঞ্চকর এক অভিযানের মতো। মৃত্যুর পর আমি এটাই চাই। আমি বেঁচে থাকতে চাই।’
অভিনেত্রী আরও জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ধৈর্যের অভাব অনুভব করেছেন। অন্যদিকে, গাছপালা ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে এবং প্রকৃতির নিয়মে নিজেদের বিকশিত করে। মৃত্যুর পর গাছের মাধ্যমে নিজের অস্তিত্বকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার ভাবনাটি তাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়।
তার ভাষায়, ‘ধৈর্যের অভাবে ভুগতাম। এদিকে গাছের ধৈর্য আছে। তাই নিজেকে উপলব্ধি করার এটাই সুযোগ। গাছের মধ্য দিয়ে আমি নিজেকে প্রকাশ করে যেতে পারব, জীবনের নানা রূপেরও সাক্ষী হতে পারব।’
নিজের এই ইচ্ছা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, তা স্বীকার করেন নোভাক। তবে তার কাছে মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রকৃতির অংশ হয়ে ওঠার বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দর। তার বিশ্বাস, জৈবসারে পরিণত হলে সেই উপাদান গাছপালার বেড়ে ওঠায় কাজে লাগবে।
অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার কাছে মাটির সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার ধারণাটিই খুব সুন্দর। কম্পোস্ট হয়ে থাকলে গাছপালা আরও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এটি প্রাকৃতিক, বাস্তব, অকৃত্রিম ও বিশুদ্ধ।’
এ উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ‘আর্থ ফিউনারেল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় তার দেহকে জৈবসারে রূপান্তর করা হবে।
কিম নোভাক নিজের এই শেষ ইচ্ছার কথা পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও জানিয়েছেন। মৃত্যুর পর তার দেহ থেকে তৈরি জৈবসার ব্যবহার করে প্রত্যেককে একটি করে গাছ অথবা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। তবে ঝোপের পরিবর্তে গাছ লাগানোর প্রতিই তাঁর আগ্রহ বেশি।
এ প্রসঙ্গে নোভাক বলেন, ‘আমি তাদের প্রত্যেককে একটি গাছ বা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগাতে বলেছি। তবে গাছ লাগানোই আমার বেশি পছন্দ। কারণ, আমি আরও বেড়ে উঠতে চাই। আমার কাছে আসল বিষয়টাই হলো, বেড়ে চলা। আমি চাই, আমার বেড়ে ওঠা যেন থেমে না যায়।’
অভিনেত্রীর কাছে মৃত্যুর পরও জীবনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার এটি একটি সুন্দর উপায়। তার এই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার পাশাপাশি নতুন জীবনের বিকাশে অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ পেয়েছে।
হলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিম নোভাক ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বক্স অফিসের শীর্ষ তারকাদের মধ্যে ছিলেন। তবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থাতেই ১৯৬৬ সালে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এরপর ব্যক্তিগত জীবনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি নিরিবিলি পরিবেশে বসবাস শুরু করেন। পাশাপাশি ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে নিজের সৃজনশীলতাও প্রকাশ করতে থাকেন।
চলচ্চিত্রের পর্দায় পরিচিত মুখ হওয়ার বাইরেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখতে চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। মৃত্যুর পরও প্রকৃতির অংশ হয়ে নতুন জীবনের বিকাশে ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা তার সেই ভাবনারই প্রতিফলন।



