২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ৯ কার্তিক ১৪৩৩
বিবিধ

প্রতিমা বিসর্জনের আগমুহূর্তে ‘অলৌকিক ঘটনা’, ফের চার দিন পূজা

প্রতিমা বিসর্জনের আগমুহূর্তে ‘অলৌকিক ঘটনা’, ফের চার দিন পূজা

সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে গত ২১ অক্টোবর। তবে যশোর সদর উপজেলার কৈখালী সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে হয়েছে ব্যতিক্রম। বিসর্জনের প্রস্তুতির সময় এক নারীর অস্বাভাবিক আচরণ ও পূজায় ত্রুটির দাবিকে কেন্দ্র করে স্থগিত করা হয় প্রতিমা বিসর্জন। পরে গ্রামের মানুষের মঙ্গল কামনায় একই মণ্ডপে দ্বিতীয় দফায় পূজার আয়োজন করা হয়। শনিবার বিকালে ভৈরব নদে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।

মন্দিরের আয়োজকরা জানান, গত বুধবার বিজয়া দশমীর দিন বিকালে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সবিতা রাণী ঘোষ নামে এক নারী হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার ওপর দেবী দুর্গা ভর করেছেন। পূজায় অশৌচ পালনকারী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ এবং পুরোহিতের মাছ-মাংস খাওয়ার কারণে পূজায় ত্রুটি হয়েছে বলে তিনি জানান। নতুন করে পূজার আয়োজন না করলে গ্রামে অমঙ্গল ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ঘটনাটি মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। পরে প্রতিমা বিসর্জন স্থগিত রেখে নতুন পুরোহিতের মাধ্যমে আবার পূজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রথম দফার পূজার নিয়ম অনুসরণ করে দ্বিতীয় দফায় সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। শনিবার সকালে ঘটপূজা ও সিঁদুরদান শেষে বিকালে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

কৈখালী সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গণেশ কুমার বলেন, ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অন্য মণ্ডপগুলোর মতো এখানেও দুর্গাপূজা হয়েছে। ২১ অক্টোবর বিকালে বিসর্জনের প্রস্তুতির সময় সবিতা রাণী ঘোষ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তার দাবি ছিল, পূজায় ত্রুটি হয়েছে এবং নতুন করে পূজা না করলে গ্রামবাসীর ক্ষতি হবে।

গণেশ কুমার বলেন, ওই নারীর বক্তব্যের পর অশৌচ পালনকারী ব্যক্তিরা পূজায় অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা খোঁজ নেওয়া হয়। একই সময়ে নড়াইলে পূজা দেখতে যাওয়ার পথে এলাকার কয়েকজন দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এসব ঘটনায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হলে পুনরায় পূজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্দিরের সভাপতি মিলন কুমার রায় বলেন, শত বছরের বেশি সময় ধরে গ্রামে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। তবে এবারই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। খরচ বেশি হলেও সবার মঙ্গলের জন্য দ্বিতীয় দফায় পূজার আয়োজন করা হয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ভুলত্রুটি ক্ষমা করে এলাকার মানুষের শান্তি ও মঙ্গল বয়ে আনবেন বলে আশা করেন তিনি।

Advertisements

মন্দিরের পুরোহিত উজ্জ্বল কুমার চ্যাটার্জী বলেন, শাস্ত্রে দ্বিতীয় দফায় দুর্গাপূজার নিয়ম নেই। তবে এলাকার মানুষের মঙ্গল কামনায় ঘট স্থাপন করে আবার পূজার আয়োজন করা হয়। শনিবার বিকালে ধর্মীয় আচার মেনে স্থানীয় ভৈরব নদে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।

যশোর শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরের কৈখালী গ্রামে শত বছরের বেশি সময় ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে। এবার বিশ্বাস ও অমঙ্গলের শঙ্কাকে কেন্দ্র করে একই মণ্ডপে দু’বার পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ। তার মতে, ঘটনাটি ব্যতিক্রমী।

Advertisements