২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ৯ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলাদেশ

বাপের বাড়ির নাশতা কম হওয়া নিয়ে বিরোধ: মারধরের শিকার অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, শাশুড়ি গ্রেপ্তার

বাপের বাড়ির নাশতা কম হওয়া নিয়ে বিরোধ: মারধরের শিকার অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, শাশুড়ি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসা নাশতার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নূর সিফাতের (২২) মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মারা যান তিনি। এ ঘটনায় তার শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত সিফাতুন নূর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার মো. নূর ও জুহিনুর আক্তারের মেয়ে। মাত্র পাঁচ মাস আগে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা এলাকার ইলিয়াস খাঁ বাড়ির দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়েছিল।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিজের হাতে তৈরি বিভিন্ন নাশতা নিয়ে যান সিফাতের মা জুহিনুর আক্তার। তবে আনা নাশতার পরিমাণ কম হয়েছে—এমন অজুহাত তুলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সিফাত ও তার মায়ের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে সিফাতের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম তাদের ওপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও পেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন নিহতের মা।

সিফাতের পরিবারের দাবি, ওই রাতেই দুবাই থেকে তার স্বামী তারেক ফোন করে সিফাতের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতির খবর জানান। পরে স্বজনেরা গুরুতর আহত অবস্থায় সিফাতকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং ৯ দিন তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা মো. নূরের অভিযোগ, নির্মম এই মারধরের ঘটনা ও পেটের সন্তান নষ্ট করার দায় ধামাচাপা দিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রচার করেছিল যে সিফাত আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।

কুসুমপুরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক আখ্যা দিয়ে জানান, সুষ্ঠু পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।

Advertisements

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত শাশুড়িকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Advertisements