প্রেমের সম্পর্কে কোন ৫ অভ্যাস আর মেনে নিতে চাইছে না জেন–জি?

প্রেম ও ডেটিংয়ের ধরন বদলে যাচ্ছে প্রজন্মের ব্যবধানে। সম্পর্কের শুরুতেই প্রত্যাশা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে চান জেন–জির অনেক তরুণ-তরুণী। সম্পর্কের অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে কিংবা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হলে সেখান থেকে সরে আসতেও দ্বিধা করছেন না তাঁরা। ফলে ডেটিংয়ের প্রচলিত বেশ কিছু অভ্যাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এই প্রজন্মের অনেকে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতেও এসব পরিবর্তনের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে।
ইচ্ছা করে দেরিতে মেসেজের উত্তর দেওয়া
কাউকে পছন্দ করলেও ইচ্ছা করে কয়েক ঘণ্টা পর মেসেজের উত্তর দেওয়া, নিজের আগ্রহ গোপন রাখা কিংবা সব সময় অপর পক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষায় থাকা—একসময় ডেটিংয়ের পরিচিত কৌশল ছিল এসব। ধারণা ছিল, দ্রুত উত্তর দিলে বা বেশি আগ্রহ দেখালে নিজেকে সহজলভ্য মনে হতে পারে।
তবে জেন–জির অনেকেই এখন এই কৌশলের বদলে সরাসরি আগ্রহ প্রকাশ করাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের কাছে সময়মতো মেসেজ দেখা ও উত্তর দেওয়া ইতিবাচক লক্ষণ। ইচ্ছাকৃতভাবে অপেক্ষায় রেখে অপর পক্ষের আগ্রহ যাচাই করার চেয়ে স্বাভাবিক ও আন্তরিক যোগাযোগকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।
মাসের পর মাস অনিশ্চয়তায় কথা চালিয়ে যাওয়া
নিয়মিত মেসেজ আদান-প্রদান, রিল শেয়ার কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে কথাবার্তা চললেও সম্পর্কটি কোন দিকে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট না হওয়া ডেটিংয়ের পরিচিত অভিজ্ঞতা। এই অনিশ্চিত পর্যায়কে বলা হয় ‘টকিং স্টেজ’।
জেন–জির অনেকেই এখন কয়েক সপ্তাহের বেশি এমন অবস্থায় থাকতে আগ্রহী নন। অপর ব্যক্তি সম্পর্কের বিষয়ে কী ভাবছেন, ভবিষ্যতে কী চান কিংবা দুজনের মধ্যে সম্পর্কের সম্ভাবনা কতটা—এসব প্রশ্ন সরাসরি জানতে চান তাঁরা। প্রশ্ন করতে অস্বস্তি হলেও স্পষ্ট উত্তর পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এই প্রজন্মের অনেকে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে অনুমাননির্ভর সম্পর্কে থাকার ঝুঁকি কমে।
ঈর্ষাকে ভালোবাসার প্রমাণ মনে করা
সঙ্গী কার সঙ্গে কথা বলছেন, কোথায় যাচ্ছেন কিংবা কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন—এসব বিষয়ে অতিরিক্ত কৌতূহলকে একসময় ভালোবাসা ও যত্নের প্রকাশ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু জেন–জির অনেকেই এখন এই ধারণাকে প্রশ্ন করছেন।
তাঁদের দৃষ্টিতে, কারও প্রতি যত্নশীল হওয়া আর তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া এক বিষয় নয়। সঙ্গীর ফোন পরীক্ষা করা, কার সঙ্গে মিশবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া কিংবা নিজের মতো সময় কাটানোর জন্য তাঁকে অপরাধবোধে ভোগানোকে সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ মনে করেন না তাঁরা।
বরং পারস্পরিক বিশ্বাস, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং একে অন্যের পছন্দকে সম্মান করাকেই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছেন এই প্রজন্মের অনেকে।
ডেটের বিল পুরুষকেই দিতে হবে—এমন ধারণা
প্রথম ডেটে পুরুষই আমন্ত্রণ জানাবেন কিংবা বিল পরিশোধ করবেন—এমন প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। তবে জেন–জির অনেকের কাছে বিষয়টি আর লিঙ্গভিত্তিক দায়িত্ব কিংবা ভালোবাসার পরীক্ষা নয়।
তাঁদের মতে, যে কেউ প্রথম ডেটে যাওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন এবং পরিস্থিতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যে কেউ বিল পরিশোধ করতে পারেন। কে আমন্ত্রণ জানালেন বা কে টাকা দিলেন, তার চেয়ে দুজনের স্বাচ্ছন্দ্য ও সমান অংশগ্রহণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। ফলে ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বলে টিকিয়ে রাখা
একসঙ্গে কয়েক বছর কাটানো, অনেক স্মৃতি তৈরি হওয়া কিংবা পরিবার ও বন্ধুদের বিয়ের প্রত্যাশা—এসব কারণে অসুখী সম্পর্কেও থেকে যান অনেকে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয় কিংবা পরিচিত জীবন ছেড়ে বেরিয়ে আসার দ্বিধাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।
তবে জেন–জির অনেকেই মনে করছেন, কোনো সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেই সেটি সুস্থ বা সুখের হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অতীতের স্মৃতি, অভ্যাস কিংবা অন্যদের প্রত্যাশার কারণে এমন সম্পর্কে আটকে থাকার পক্ষপাতী নন তাঁরা।
সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান, মানসিক স্বস্তি ও বোঝাপড়া না থাকলে শুধু সময়ের হিসাব দিয়ে সেটিকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। তাঁদের কাছে সম্পর্কের স্থায়িত্বের পাশাপাশি সম্পর্কটি কতটা সুস্থ ও অর্থবহ, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।



