মাত্র ৫ টাকার টিকিটে চিকিৎসা, নিরাপদ মাতৃত্বের ভরসা মোহাম্মদপুরে

রাজধানীর ব্যয়বহুল চিকিৎসাব্যবস্থার মধ্যে স্বল্প খরচে সেবা দিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার। বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
ঢাকায় চিকিৎসা করানো অনেক পরিবারের জন্যই বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ। বেসরকারি হাসপাতালের উচ্চ ব্যয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ এবং ওষুধের মূল্য মেটাতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র ৫ টাকার টিকিটে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার।
স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার প্রত্যাশায় প্রতিদিনই হাসপাতালটিতে আসছেন বিভিন্ন বয়সী রোগী। তাঁদের অনেকের কাছেই চিকিৎসার ব্যয় কম হওয়া স্বস্তির বিষয়। রোগীদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ তাঁদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করছে।
কম খরচে চিকিৎসা, সাধারণ মানুষের স্বস্তি
চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও বাস্তবে চিকিৎসার ব্যয় অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা কিংবা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে অনেক পরিবারকে সঞ্চয় ভাঙতে হয়, এমনকি ঋণের আশ্রয়ও নিতে হয়।
এই বাস্তবতায় স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারেও রোগীরা কম খরচে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ঢাকা জার্নালকে বলেন, “এখানে চিকিৎসা নিতে এসে ভালো সেবা পাচ্ছি। খরচও অনেক কম। অন্য জায়গায় চিকিৎসা করাতে গেলে অনেক টাকা লাগে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এই হাসপাতাল অনেক উপকার করছে।”
রোগীদের এমন অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, চিকিৎসার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সেবার মান বজায় রাখাও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
মাতৃস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক প্রসবে বিশেষ গুরুত্ব
হাসপাতালটির অন্যতম প্রধান সেবাক্ষেত্র মাতৃস্বাস্থ্য। গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হলেও মা ও শিশুর নিরাপত্তাই এখানে প্রসবের পদ্ধতি নির্ধারণের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গর্ভবতী নারী ও অনাগত শিশুর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রসবের উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করা জরুরি। প্রয়োজন হলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারও মা ও শিশুর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করাও নিরাপদ মাতৃত্বের অপরিহার্য অংশ।
পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত সেবার ওপর জোর
হাসপাতালটির পরিচালক ডা. মো. শামসুজ্জামান বলেন, “আমরা এখানে খুব কম খরচে ভালো মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিই। রোগীরা যেন সঠিক চিকিৎসা পান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
চিকিৎসাসেবায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রোগীর প্রতি যত্নশীল আচরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি মা ও নবজাতকের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখে।
সাশ্রয়ী চিকিৎসার সুযোগ ছড়িয়ে পড়ুক
চিকিৎসার খরচ যেন কোনো পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের বাধা না হয়—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। মাত্র ৫ টাকার টিকিটে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদ্যোগ।
তবে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি সেবার মান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, দক্ষ জনবল এবং মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক মান বজায় রাখা গেলে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে।
রাজধানীর ব্যয়বহুল চিকিৎসাব্যবস্থার মধ্যে সাশ্রয়ী সেবার এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য আশাব্যঞ্জক। প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও বেশি মানুষের কাছে মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।



