ইস্ট বেকারের পণ্য বাজারজাতকরণে কী বলছে বিএসটিআই

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে ইস্ট বেকারের নির্দিষ্ট ব্যাচের দুটি খাদ্যপণ্যের বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশ শর্তসাপেক্ষে তুলে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বাজারজাতকরণে এখন আর কোনো বাধা নেই।
ঢাকার জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে ইস্ট বেকারের নির্দিষ্ট ব্যাচের পণ্য প্রত্যাহার এবং বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে বিপণন পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় ইস্ট বেকারের ব্রেডে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেট নামের প্রিজারভেটিভের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে। সংস্থাটির পরিচালক (সিএম) আলাউদ্দিন হোসেন জানান, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা চারটি নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিটিতেই প্রিজারভেটিভের মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক কম পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ব্রেডে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটের নিরাপদ মাত্রা প্রতি কেজিতে ৫ গ্রাম। ইস্ট বেকারের চারটি নমুনায় এই উপাদানের মাত্রা পাওয়া গেছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৬২, ২ দশমিক ৫৩, ২ দশমিক ৯৯ ও ২ দশমিক ৬৭ গ্রাম। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, নমুনাগুলোতে প্রিজারভেটিভের মাত্রা নির্ধারিত মানের মধ্যেই রয়েছে।
এর আগে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ থাকার অভিযোগে ইস্ট বেকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যাচের দুটি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং সেগুলোর বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বিএফএসএ। পণ্য দুটি হলো ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নিজেদের পণ্যের নমুনা বিভিন্ন স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করায় ইস্ট বেকার। পরে পরীক্ষার ফলাফল সংযুক্ত করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
ইস্ট বেকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভোক্তার নিরাপত্তা ও পণ্যের মান যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বিএসটিআই, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএফএসটি) এবং ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে নমুনা পরীক্ষা করানো হয়েছে। পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটসহ বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া বিএসটিআই ও ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় পণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেট শনাক্ত হয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পণ্যের সংরক্ষণকাল ও জীবাণুজনিত নিরাপত্তা যাচাইয়ে বিসিএসআইআরের আইএফএসটিতে ৩০ দিনের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল শেলফ লাইফ স্টাডিও করা হয়। ইস্ট বেকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রতিটি পর্যায়ের ফলাফল গ্রহণযোগ্য ছিল এবং পুরো পরীক্ষার সময়জুড়ে সালমোনেলা এসপিপি জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভোক্তার আস্থা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার গুণগত মান আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে।
একই সঙ্গে ভোক্তা, পরিবেশক, ডিলার ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেড।



