১৯ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৩ কার্তিক ১৪৩৩
বিবিধ

মহাঅষ্টমী কুমারী পূজা আজ

PJ_LFcJgt4FR3a_HEMxnk-ot69r2

দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমী আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর)। সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপগুলোতে দেবী দুর্গার আরাধনা ও পুষ্পাঞ্জলিতে অংশ নিচ্ছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তরা। মহাঅষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজার। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও দিনটি উপলক্ষে বিশেষ পূজার আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ৯টায় গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। মহাঅষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে এই পূজায় ভক্তদের সমাগম ঘটে।

সংগৃহীত

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার শক্তি ও পবিত্র মাতৃরূপ কল্পনা করে তাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে কুমারী পূজার জন্য নির্বাচন করা হয়। কুমারীর মধ্যে দেবীশক্তির প্রকাশ উপলব্ধি করা এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে এ পূজার তাৎপর্য প্রকাশ পায়। শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা অনুসারেও শুদ্ধচিত্ত কুমারীর মধ্যে ভগবতীর রূপ উপলব্ধি করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, কুমারীর বয়সভেদে দেবীর বিভিন্ন নাম ও রূপ কল্পনা করা হয়। এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুই বছর বয়সীকে সরস্বতী, তিন বছর বয়সীকে ত্রিধামূর্তি, চার বছর বয়সীকে কালিকা, পাঁচ বছর বয়সীকে সুভাগা এবং ছয় বছর বয়সীকে উমা নামে অভিহিত করা হয়। একইভাবে সাত বছর বয়সী কন্যার নাম মালিনী, আট বছর বয়সী কন্যার নাম কুব্জিকা, নয় বছর বয়সী কন্যার নাম কালসন্দর্ভা এবং দশ বছর বয়সী কন্যার নাম অপরাজিতা। এ ছাড়া ১১ বছরে রুদ্রাণী, ১২ বছরে ভৈরবী, ১৩ বছরে মহালক্ষ্মী, ১৪ বছরে পীঠনায়িকা, ১৫ বছরে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছরে অন্নদা নামে কুমারীর আরাধনা করার প্রচলন রয়েছে।

কুমারী পূজার জন্য নির্বাচিত কন্যাকে মহাঅষ্টমীর দিন সকালে স্নান করিয়ে নতুন পোশাকে সাজানো হয়। এরপর কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা এবং হাতে ফুল দিয়ে তাকে সুসজ্জিত আসনে বসানো হয়। নির্ধারিত ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী ষোড়শোপচারে অর্থাৎ ষোলোটি উপাচারের মাধ্যমে দেবীজ্ঞানে তার পূজা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও দেবীর স্তোত্রপাঠে পূজামণ্ডপের পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে কুমারী পূজার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই পূজার মধ্য দিয়ে নারীশক্তি, মাতৃত্ব ও নারীর মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নারীর মাতৃরূপকে সম্মান জানানো এবং সমাজে নারীর যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বার্তাও বহন করে এ আয়োজন। ভক্তদের কাছে কুমারী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং সৃষ্টির মধ্যে মাতৃশক্তির উপস্থিতি অনুভব করারও একটি উপলক্ষ।

Advertisements

মহাঅষ্টমীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন সন্ধিপূজা। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার অসুরবধের স্মৃতির সঙ্গে এই পূজার সম্পর্ক রয়েছে। তাই দুর্গোৎসবের গুরুত্বপূর্ণ আচারগুলোর মধ্যে সন্ধিপূজাও বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হলেও ষষ্ঠী থেকে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর সপ্তমী পেরিয়ে আজ উদ্‌যাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং ভক্তদের দুঃখ, ভয় ও বাধাবিপত্তি থেকে রক্ষার প্রতীক। প্রচলিত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়।

আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পালিত হবে। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটবে। এদিন দেবীকে বিদায় জানিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন ভক্তরা। রাজধানীতে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়ে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের কর্মসূচি রয়েছে। বিসর্জন ও মহা-আরতির মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন।

Advertisements