চাঁদপুরে ১০ মণ ইলিশ জব্দ, এতিমখানা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ

মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের অভিযোগে ১৬ জেলেকে আটক করেছে নৌপুলিশ। এ সময় ছয়টি নৌকা, ১২ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং ১০ মণ ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে জব্দ করা মাছ এতিমখানা ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নৌপুলিশ জানায়, বুধবার রাতে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অভিযোগে ১৬ জেলেকে আটক করা হয়। অভিযানে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি নৌকা, বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও ১০ মণ ইলিশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর থানায় ছয়টি মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল ও নৌকা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে, জব্দ করা ইলিশ মাছ নষ্ট না করে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এতিমখানা ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং অভয়াশ্রম সুরক্ষায় নদীতে নিয়মিত অভিযান ও টহল চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ। চাঁদপুর নৌথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে নদীতে দিনরাত তিন থেকে চারটি দল টহল দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে নৌপুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই অসাধু জেলেদের নদীতে নামতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ শিকার বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় আইন অমান্য করে মাছ ধরলে ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



