১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বিনোদন

বন্ধুকে চমক দিতে মধ্যরাতে হাজির ফারিয়া, দরজা খুললেন না পিয়া

IMG_6164

মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলের জন্মদিন আজ। বিশেষ এই দিনে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও ভক্তদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। তবে জন্মদিনের প্রথম প্রহরে প্রিয় বন্ধুকে চমকে দিতে গিয়ে এক মজার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। বন্ধুর বাসায় কেক ও উপহার নিয়ে হাজির হলেও শেষ পর্যন্ত দরজাই খুলতে পারেননি তিনি!

বন্ধু পিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে রাত ১২টার পর কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাসার সামনে হাজির হন ফারিয়া। সঙ্গে ছিল কেক ও নানা উপহার। পরিকল্পনা ছিল, মধ্যরাতে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে পিয়াকে চমকে দেবেন। কিন্তু পরিস্থিতি যে উল্টো দিকে মোড় নেবে, তা হয়তো ভাবেননি তিনি।

বাসার দরজায় দীর্ঘক্ষণ কড়া নাড়ার পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি ফারিয়া ও তাঁর বন্ধুরা। পরে জানা যায়, পিয়া জান্নাতুল ও তাঁর বাসার অন্য সদস্যরা ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছেন। ফলে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ তাঁদের কানে পৌঁছায়নি।

অবশেষে বন্ধুর দরজার সামনেই একটি ভিডিও ধারণ করেন শবনম ফারিয়া। সেখানে মজার ছলে তিনি বলেন, ‘এটা পিয়া জান্নাতুলের বাসা। আধা ঘণ্টা ধরে আমরা নক করছি, কিন্তু যার জন্মদিন, সে দরজা খুলছে না। সে ঘুমিয়ে আছে। সো, পিয়া হ্যাপি বার্থডে। সকালে উঠে ভিডিওটা দেখো।’

বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফারিয়ার সেই ভিডিওর নিচে মন্তব্য করেন পিয়া জান্নাতুল। বন্ধুর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘তোমরা তো জানো, আমি জলদি ঘুমিয়ে যাই। অন্তত ১০টার দিকেও বলতে পারতে যে, তোমরা আসবে। পুরা বাসা ঘুমিয়ে গিয়েছিল। সো সরি। আর অনেক ধন্যবাদ।’

এদিকে শুধু মধ্যরাতের এই চমকই নয়, পিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও একটি পোস্ট দিয়েছেন ফারিয়া। সেখানে দুজনের একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে বন্ধুত্বের গভীরতা তুলে ধরেন তিনি।

Advertisements

ফারিয়া লেখেন, প্রতিটি মানুষের জীবনে এমন একজন বন্ধু থাকা দরকার, যিনি প্রয়োজনে তাঁকে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের অর্থও বদলে যায়। তখন বন্ধুত্ব কেবল আড্ডা দেওয়া, কেনাকাটা করা কিংবা সব বিষয়ে একমত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং একজন আরেকজনের ভুল ধরিয়ে দেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেন এবং প্রয়োজনের সময় শক্তভাবে পাশে দাঁড়ান।

পিয়াকে অনেক আগে থেকেই চিনতেন ফারিয়া। একই জায়গায় কাজ করার সুবাদে তাঁদের পরিচয় হলেও বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে ত্রিশ বছর বয়স পেরোনোর পর। পরিণত বয়সের নারী বন্ধুত্বকে বিশেষ সুন্দর একটি সম্পর্ক উল্লেখ করে ফারিয়া বলেন, জীবনের একটা পর্যায়ে বন্ধু কখনো বোন, কখনো অভিভাবক, আবার কখনো সবচেয়ে বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা হয়ে ওঠেন।

বন্ধুকে চমকে দিতে গিয়ে দরজার সামনে অপেক্ষা করার এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে জন্মদিনের মজার এক স্মৃতি। আর ফারিয়ার শুভেচ্ছাবার্তায় উঠে এসেছে তাঁদের বন্ধুত্বের এমন এক দিক, যা শুধু আনন্দ ভাগাভাগি নয়, বরং জীবনের কঠিন সময়েও একে অপরের পাশে থাকার গল্প বলে।

Advertisements