১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

‘আমার প্রেসিডেন্ট, দুঃখিত আমার স্বামী’: প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়েই স্বামীর সঙ্গে ট্রাম্পকে গুলিয়ে ফেললেন নতুন মার্কিন প্রেস সচিব

‘আমার প্রেসিডেন্ট, দুঃখিত আমার স্বামী’: প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়েই স্বামীর সঙ্গে ট্রাম্পকে গুলিয়ে ফেললেন নতুন মার্কিন প্রেস সচিব

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই হাস্যরসের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব কেটি যাকারায়া। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের নিয়োগকর্তা ও স্বামীকে গুলিয়ে ফেললেন তিনি। মুখ ফসকে ট্রাম্পকেই ‘স্বামী’ বলে বসলেন। আর তার অভিষেক-বক্তব্যের বেশিরভাগ জুড়ে ছিল কেবল প্রেসিডেন্টের প্রশংসা।

শুক্রবার ক্যারোলিন লেভিটের উত্তরসূরি হিসেবে যাকারায়ার নাম ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। চাকরিতে যোগ দেওয়ার দ্বিতীয় দিনে প্রথমবারের মতো ব্রিফিং রুমে হাজির হন তিনি। শুরুতেই সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্পের হয়ে কাজ করতে পেরে তিনি ‘ভীষণ সম্মানিত’। সেইসঙ্গে যোগ করেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই তার হয়ে কাজ করার ইচ্ছে ছিল।’

এরপর টানা ছয় মিনিট ধরে তিনি ট্রাম্পের বন্দনা ও গত কয়েক মাসের সাফল্যের কথা বলেন। লিখে আনা বক্তব্য পড়ার সময়ও বারবার হোঁচট খাচ্ছিলেন তিনি। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযানকে তিনি ‘ঐতিহাসিক একদিনের যুদ্ধ’ আখ্যা দেন; অথচ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যে আসল যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা ইতিমধ্যেই নবম মাসে পা দিতে চলেছে।

প্রশ্নোত্তর পর্ব আসতেই একটি নোট-কার্ড বের করেন যাকারায়া। সেখানে নির্দিষ্ট কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের নামের তালিকা লেখা ছিল। প্রেস সেক্রেটারির ডায়াসের ওপর থেকে এক ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় সেই দৃশ্য ধরাও পড়ে যায়।

হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সচিব প্রথম সুযোগটি দেন কট্টর ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্ট নিউজের এক সাংবাদিককে। ওই সাংবাদিক যে আসনে বসেছিলেন, তা সাধারণত হোয়াইট হাউসের কর্মীদের জন্য বরাদ্দ থাকে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি সহানুভূতিশীল ‘নিউ মিডিয়ার’ জন্য যাকারায়ার পূর্বসূরি এই আসনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

এরপর যাকারিয়া সুযোগ দেন ফক্স নিউজের প্রতিনিধি পিটার ডুসিকে। তিনি প্রশ্ন করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভের জেরে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে কি না।

Advertisements

এ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে যাকারায়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ‘পরে জানাবেন’।

এরপর তালিকা দেখে ডেইলি মেইলের প্রতিনিধিকে প্রশ্নের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি জানতে চান, গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে ট্রাম্প এখনও বরখাস্ত করার কথা ভাবছেন কি না। কারণ অ্যাথেন্সে দায়িত্ব পালনের সময় এবং তার আগে গিলফয়েলের বিভিন্ন আচরণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অস্বস্তিকর খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

এবার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন যাকারায়া। তিনি নিশ্চিত করেন, ফক্স নিউজের ওই প্রাক্তন উপস্থাপিকাকে (যিনি ট্রাম্পের বড় ছেলের প্রাক্তন বাগদত্তাও) সত্যিই পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

কিন্তু এরপরই ডেইলি মেইলের পক্ষ থেকে করা সাধারণ ফলোআপ প্রশ্ন সামলাতে গিয়েই খেই হারিয়ে ফেলেন যাকারায়া। একপর্যায়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। যাকারিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তার পূর্বসূরি যেখানে মাত্র দুই সন্তানের দেখভালের ¬ধকল সামলাতে না পেরে পদত্যাগের করেছেন, সেখানে চার সন্তানের মা হয়ে প্রেস সেক্রেটারির মতো কঠিন দায়িত্ব তিনি সামলাবেন কীভাবে?

তখনই পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে যায়।

যাকারায়া বলেন, ‘আমার বাচ্চা…বাচ্চাদের সঙ্গে সন্ধ্যা কাটাতে পারব না, এমন ভাবনা আমার কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

এরপরই নিজের নিয়োগকর্তার সঙ্গে স্বামীকে গুলিয়ে ফেলেন তিনি: ‘তাই আমার প্রেসিডেন্ট—ক্ষমা করবেন, আমার স্বামী পাশে বাইরে আছেন।’

এ কথা শুনে প্রেস রুমে হাসির রোল ওঠে। সেই পরিস্থিতি সামাল তিনি আবার ট্রাম্পের প্রশংসা শুরু করেন। ট্রাম্পকে দেশের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে পরিবার-বান্ধব প্রেসিডেন্ট’ আখ্যা দেন তিনি।

যাকারায়া বলেন, ‘তিনি [ট্রাম্প] সংসারী নারীদের বেশি করে নিয়োগ দিয়েছেন। আমার চার সন্তান রয়েছে এবং এই কাজটা কতটা চাপের তা জানা সত্ত্বেও তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন—এ থেকেই স্পষ্ট, এ দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্যতা আমার আছে।’

এ পর্যায়ে ব্রিফিং শেষ করে তিনি কারণ হিসেবে বলেন, আলাস্কার ‘ঐতিহাসিক সফরের উদ্দেশ্যে মেরিন ওয়ানে উঠতে যাচ্ছেন’ ট্রাম্প, আর সাংবাদিকরা তাদের সব প্রশ্ন বাইরে গিয়ে খোদ প্রেসিডেন্টকেই করতে পারবেন।

কিন্তু আদতে ওই মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কোনো নির্ধারিত সূচিই ছিল না।

যাকারায়ার এই সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও রিপাবলিকান শিবিরের অন্দরমহল, কোনো পক্ষই সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তা, প্রশাসনের ভেতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যার এখনো ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে, দি ইন্ডিপেনডেন্টকে বার্তা পাঠিয়ে যাকারায়ার এই অভিষেককে ‘ধ্বংসযজ্ঞ’ বলে উল্লেখ করেন। এর আগে তিনি এই নিয়োগকে ‘হাস্যকর বাছাই’ উল্লেখ করে বলেছিলেন, যাকারায়া বড়জোর ‘ছয় মাস টিকবেন।’

এদিকে বর্তমান প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এমএস নাউ’-কে বলেন, যাকারায়া ‘শুরুতেই পা হড়কেছেন’। ট্রাম্পের সাবেক কমিউনিকেশন ডিরেক্টর অ্যান্টনি স্কারামুচ্চির মাত্র ১১ দিনে চাকরি হারানোর রেকর্ড ভাঙতে না চাইলে যাকারায়াকে ‘খুব দ্রুত এবং অবিশ্বাস্য রকমের উন্নতি করতে হবে।’

তবে প্রকাশ্যে অন্তত নতুন প্রেস সচিবের পাশেই দাঁড়াচ্ছে হোয়াইট হাউস। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চ্যুং দাবি করেন, যাকারায়ার এই সূচনা ছিল ‘অসাধারণ এক শুরু’।

চ্যুং আরও লেখেন, ‘ব্রিফিং রুম তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন এ পর্যন্ত যেসব দুর্দান্ত কাজ করেছে, মার্কিন জনগণকে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।’

Advertisements