১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শিক্ষা

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষার মাধ্যমে

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষার মাধ্যমে

আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আর দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। এ বিষয়ে ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় এ নীতিমালা জারি করে। এতে বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দক্রমে রাখতে পারবে। তবে দুই পালায় (ডাবল শিফট) পরিচালিত কোনো বিদ্যালয়ের উভয় পালা পছন্দ করলে তা দুটি বিদ্যালয় পছন্দ করার সমান হিসেবে গণ্য হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৫০ নম্বরের এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

গত মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভর্তিতে লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা চালু করা হবে। এরপর শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়তে পারে। পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতাও বাড়তে পারে, যা শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করবে। এরই মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কোচিং কার্যক্রম শুরুর অভিযোগও ওঠে।

পরে সিদ্ধান্ত হয়, প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। আর ওপরের শ্রেণিগুলোতে ভর্তি নেওয়া হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আগের মতো লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালু রাখা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।

Advertisements

একসময় বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কারণে অল্প বয়সেই শিশুদের কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতো। নামী বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে অনেক পরিবার কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট শিক্ষকের সহায়তা নিত। ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও ছিল। এতে সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর ভালো বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে যেসব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেগুলোতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা চালু ছিল।

পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে এ পদ্ধতি অব্যাহত ছিল। এবার নতুন নীতিমালার মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে লটারি এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনা হলো।

Advertisements