জিমে স্ট্যামিনা বাড়াতে পারে চকলেটের সুবাস

জিমে ঘাম ঝরাচ্ছেন, এসময় না খেয়ে শুধু একটুকরো চকলেটের সুবাস টেনে নিলেন নাকের ভেতর। কী ভাবছেন, চকলেট আপনার মনোযোগ কেড়ে নেবে? কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এই গন্ধটুকুই আপনার জিম সেশনের বারোটা বাজানোর বদলে উল্টো পেশির শক্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। জিমে গিয়ে লেগ এক্সটেনশন বা ভারী কসরত করার সময় অতিরিক্ত এক সেট ব্যায়াম করার জন্য চকলেটের গন্ধ জাদুকরি কাজ করতে পারে। তাহলে কি চকলেট খাওয়া ছাড়া শুধু গন্ধ শুঁকে ফিটনেস বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব? চলুন, এই অদ্ভুত ও মজার বিষয়ের পেছনের বৈজ্ঞানিক রহস্যটা জেনে নেওয়া যাক।
গবেষণার পেছনের গল্প
সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি অভিনব গবেষণা চালানো হয়েছে। এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখেছেন, ব্যায়ামের আগে ও চলাকালীন শুধু ডার্ক চকলেটের সুবাস নিলে শারীরিক কসরতের ক্ষমতা কীভাবে প্রভাবিত হয়। গবেষণার ফলাফল চলতি বছরের জুলাই মাসে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফিজিয়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন স্বাস্থ্যবান ও নিয়মিত রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং করেন এমন ২৩ জন তরুণ। তাদের ওপর তিনটি আলাদা সেশনে পরীক্ষা চালানো হয়। প্রতিটি সেশনের মধ্যে কমপক্ষে চার দিনের বিরতি ছিল এবং অংশগ্রহণকারীরা অন্তত ১০ ঘণ্টা খালি পেটে জিম সেশনে অংশ নিয়েছিলেন। ব্যায়ামের আগে তাদের সামনে তিনটি আলাদা গন্ধের চকলেটের স্যাম্পল ধরা হয়েছিল—৯০ শতাংশ ডার্ক চকলেটের সুবাস, ৬০ শতাংশ মিল্ক চকলেটের সুবাস এবং নিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রোল সেশনের জন্য সাধারণ পানি। অংশগ্রহণকারীদের প্রতিটি গন্ধ ৩০ সেকেন্ড ধরে শুঁকতে দেওয়া হয়। এর পর তারা লেগ এক্সটেনশন ব্যায়াম শুরু করেন।

ডার্ক চকলেটের জাদু
গবেষণার ফল বেশ চমকপ্রদ। যারা ৯০ শতাংশ ডার্ক চকলেটের সুবাস নিয়েছিলেন, তারা সাধারণ পানির সেশনের তুলনায় গড়ে প্রায় ১৮টি লেগ এক্সটেনশন বেশি করতে পেরেছিলেন। এমনকি ক্লান্ত হয়ে পড়ার আগে তারা ব্যায়ামের আরও একটি অতিরিক্ত সেট সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, ৬০ শতাংশ মিল্ক চকলেটের সুবাসও পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য করেছে। তবে তার মাত্রা ডার্ক চকলেটের মতো অতটা বেশি ছিল না। মিল্ক চকলেটের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৯টি রিপিটেশন পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, ডার্ক চকলেটের গন্ধ মানুষের ক্ষুধা কমিয়ে পেট ভরা ভাব তৈরি করে। এই অনুভূতি ব্যায়ামের পারফরম্যান্স বাড়াতে দারুণভাবে সাহায্য করে। তবে মিল্ক চকলেটের গন্ধ অংশগ্রহণকারীদের কাছে বেশি আনন্দদায়ক মনে হলেও তা ক্ষুধা দমনে ডার্ক চকলেটের মতো কার্যকর ছিল না।
সুবাস কীভাবে কাজ করে
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, খাবার খাওয়ার আগেই তার গন্ধ বা দর্শন আমাদের শরীর মানসিকভাবে প্রস্তুত করে, যাকে বলা হয় এন্ডোক্রাইন সেফালিক ফেজ রেসপন্স। অর্থাৎ, জিবে জল আসার আগেই মস্তিষ্কের সিগন্যাল শরীর উদ্দীপ্ত করে তোলে। তবে ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের পুষ্টিবিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিন কার্কপ্যাট্রিক অবশ্য একটু সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, গবেষণাটি বেশ ছোট পরিসরে এবং শুধু নির্দিষ্ট কিছু তরুণের ওপর চালানো হয়েছে। তাই সবার ক্ষেত্রে হুবহু একই ফল না-ও আসতে পারে। চকলেট ছাড়াও খেলাধুলা বা ব্যায়ামের দুনিয়ায় আরও কিছু সুবাস বেশ জনপ্রিয়। যেমন—
পুদিনা: স্প্রিন্ট, রানিং কিংবা পুশ-আপের সময় ক্লান্তি দূর করে এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।
লেবু বা সাইট্রাস: মেজাজ ফুরফুরে রাখতে এবং ব্যায়ামের সময় একধরনের ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রেরণা জোগায়।
ল্যাভেন্ডার: ব্যায়ামের পর শরীর শান্ত করতে এবং উদ্বেগ কমাতে দারুণ কাজ করে।
অবশ্য এর মানে এই নয় যে জিম বা ডায়েট না করে শুধু চকলেটের ঘ্রাণ শুঁকে আপনি রাতারাতি বডি বিল্ডার হয়ে যাবেন। বিশেষজ্ঞ মারি-ইভ ম্যাথিউ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, সুবাস কোনো জাদুর কাঠি নয় বা সঠিক ট্রেনিংয়ের বিকল্পও নয়। তবে সুস্থ জীবনধারার সঙ্গে যদি একটু চকলেটের সুবাস যোগ করা যায়, তবে জিম সেশনটা মন্দ কাটবে না।
তাহলে আগামী লেগ ডের দিন জিম ব্যাগে চকলেট রাখতে ভুলবেন না যেন। খেতে না হোক, শুধু একটু সুবাস নেওয়ার জন্যই না হয় তাকে সঙ্গে রাখা গেল।
সূত্র: হেলথ লাইন, ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফিজিওলজি



