‘বাপের বাড়িতে চলে যাও’ বললে কি স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হয়?

দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া বা মতবিরোধের সময় রাগের মাথায় অনেকেই এমন কথা বলে ফেলেন, যা পরবর্তী সময়ে সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। স্বামী যদি স্ত্রীকে বলেন, ‘তুমি তোমার বাপের বাড়িতে চলে যাও’ কিংবা ‘তোমার সঙ্গে আর সংসার করব না’, তাহলে কি এতে তালাক কার্যকর হয়ে যায়? ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এর উত্তর নির্ভর করে ব্যবহৃত শব্দ, কথার প্রেক্ষাপট এবং স্বামীর নিয়তের ওপর।
ইসলামি ফিকহে তালাকের শব্দকে সাধারণভাবে স্পষ্ট ও ইঙ্গিতপূর্ণ—এই দুই শ্রেণিতে বিবেচনা করা হয়। স্পষ্ট তালাকের ক্ষেত্রে সরাসরি তালাক দেওয়ার ভাষা ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, কিছু কথা তালাক বোঝাতেও পারে, আবার অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে। এ ধরনের কথাকে ইঙ্গিতপূর্ণ বা ‘কিনায়া’ বলা হয়।
‘বাপের বাড়িতে চলে যাও’ কথাটি সাধারণত ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। স্বামী যদি এই কথা বলার মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নিয়ত করেন, তাহলে হানাফি ফিকহের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে এক তালাকে বায়েন সংঘটিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগের বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়।
তবে স্বামী যদি তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে কথাটি না বলে থাকেন, বরং রাগের কারণে স্ত্রীকে সাময়িকভাবে বাবার বাড়িতে যেতে বলে থাকেন, তাহলে শুধু এই বক্তব্যের কারণে তালাক কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, কথাটির অর্থ ও বলার সময়কার পরিস্থিতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
এক তালাকে বায়েন কার্যকর হয়ে থাকলে স্বামী-স্ত্রী আবার একসঙ্গে সংসার করতে চাইলে সাধারণভাবে নতুন মহর ও সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে বিয়ে করতে হয়। এর আগে কোনো তালাক সংঘটিত না হয়ে থাকলে, নতুন বিয়ের পর স্বামীর আরও দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকে।
তবে বাস্তব কোনো ঘটনায় তালাক হয়েছে কি না, তা শুধু একটি বাক্য শুনে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ঠিক কী কথা বলা হয়েছিল, কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছিল, স্বামীর নিয়ত কী ছিল এবং আগে কোনো তালাক হয়েছিল কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।
তাই এমন ঘটনা ঘটলে নিজেরা অনুমান করে বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে অভিজ্ঞ ও যোগ্য মুফতির কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলা উচিত। প্রয়োজন হলে দেশের প্রচলিত পারিবারিক আইন সম্পর্কেও আইনজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।



