হোয়াইট হাউসের গাভীর দুধ চুরি করেছিলেন এক শিক্ষক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফটের সময় হোয়াইট হাউসে দুধ সরবরাহের জন্য বিশেষভাবে লালন-পালন করা হতো ‘পলিন ওয়েইন’ নামের একটি গাভী। প্রতিদিন দুধ দেওয়ার পাশাপাশি গাভীটি একসময় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এমনকি প্রেসিডেন্টের এই গাভীর দুধ চুরি করতে হোয়াইট হাউসের লনেও ঢুকে পড়েছিলেন এক শিক্ষক।
রিপলিস বিলিভ ইট অর নট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে ঐতিহাসিক ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্যাফট দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে ‘মুলি উলি’ নামের একটি গাভী হোয়াইট হাউসে আনা হয়েছিল। তবে অতিরিক্ত ওট খাওয়ার কারণে গাভীটি মারা গেলে তার পরিবর্তে উইসকনসিন থেকে খাঁটি হোলস্টাইন-ফ্রিজিয়ান জাতের পলিন ওয়েইনকে আনা হয়।
পলিন প্রতিদিন প্রায় আট গ্যালন দুধ দিত। এই দুধ দিয়ে ফার্স্ট লেডির পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের অতিথিদের কাছেও বোতলপ্রতি ৫০ সেন্টে বিক্রি করা হতো।
অল্প সময়ের মধ্যেই পলিন ওয়েইন বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মাত্র দুই বছরে গাভীটিকে নিয়ে ২০টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ন্যাশনাল জার্নাল। বিভিন্ন ডেইরি প্রদর্শনীতেও প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হতো তাকে।
তবে পলিনের জীবনে একটি অদ্ভুত ঘটনাও ঘটেছিল। একবার ভ্রমণের সময় ট্রেন থেকে হারিয়ে গিয়ে গাভীটি কসাইখানায় পৌঁছে যায়। পরে দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পলিনের জনপ্রিয়তা এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে এক শিক্ষক গোপনে হোয়াইট হাউসের লনে প্রবেশ করে তার দুধ চুরি করেছিলেন। তবে ওই শিক্ষক কে ছিলেন এবং কীভাবে তিনি দুধ চুরি করেছিলেন, সে সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বয়স বাড়ার পর পলিনকে অবসরে পাঠানো হয়। এরপর উইসকনসিনের একটি খামারে তার বাকি জীবন কাটে। গাভীটির গলার ঘণ্টাটি সংরক্ষণের জন্য রাখা হয় প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালন করা সর্বশেষ গাভী হিসেবে পরিচিত পলিন ওয়েইন। একসময় দুধ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত এই গাভী প্রেসিডেন্টের বাসভবনের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী এক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।



