৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যর্থ, জ্ঞান ফিরে ক্রিস্টা পাইকের প্রশ্ন—‘আমি কোথায়? আপনি কে?’

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যর্থ, জ্ঞান ফিরে ক্রিস্টা পাইকের প্রশ্ন—‘আমি কোথায়? আপনি কে?’

টেনেসিতে পরপর দুবার চেষ্টা করেও প্রাণঘাতী ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়নি সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। অকার্যকর এই প্রচেষ্টার পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে তিনি প্রথম প্রশ্ন করেন, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনি কে?’। তার আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি জানান, জ্ঞান ফেরার পর পাইক চরম ক্ষুব্ধ ও মারাত্মক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন।

১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাইক গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসিতে দুবার পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন দেওয়ার পরও মারা যাননি। বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়ার এমন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।

বুধবার এক আদালত ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সম্পর্কিত সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসি অঙ্গরাজ্যকে। পাইক এখনো হাসপাতালে গুরুতর চিকিৎসাধীন। তার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে তারা ভেবেছিলেন পাইক মস্তিষ্কের দিক থেকে মৃত এবং যেকোনো সময় তাকে কৃত্রিম জীবনধারণ ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। কিন্তু মঙ্গলবার হঠাৎ তিনি কথা বলতে শুরু করেন।

স্পাইভি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইক নিজেই তার হাতে শিরা খুঁজে বের করতে সাহায্য করেছিলেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় শান্ত ও ভদ্র ছিলেন। জ্ঞান ফিরে দেখেন গলায় নল ঢোকানো এবং চারপাশে অচেনা মানুষ। তার দুই হাত এখন অত্যন্ত ফুলে গেছে। এক হাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে, নিউমোনিয়া হয়েছে এবং খাবার গিলতে পারছেন না।

আইনজীবীরা বলছেন, এই পুরো ঘটনা পাইকের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো জানা যায়নি। তিনি এখন ‘রাগান্বিত ও বিভ্রান্ত’ অবস্থায় আছেন।

বুধবার জরুরি শুনানিতে পাইকের আইনজীবীরা ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের সব প্রমাণ সংরক্ষণের আবেদন জানান। বিচারক চ্যান্সেলর আইশিয়া মাইলস নির্দেশ দেন, ওই কক্ষে যা কিছু ছিল শিরায় ওষুধ দেওয়ার নল, সিরিঞ্জ, প্যাকেট, নির্দেশনাপত্র ও লেবেল সব সংরক্ষণ করতে হবে। পাইকের মানসিক অবস্থা সংক্রান্ত নথিপত্রও চেয়েছেন তিনি।

Advertisements

টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন এবং ব্যর্থতার কারণ জানতে চেয়েছেন। অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধানও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

পাইকের আইনজীবীরা আরও অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালে তার সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে। তারা ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ চেয়েছেন, যদি তাকে অন্য কোনো সরকারি স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়।

১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সী পাইক তার তখনকার প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন। শিপের বয়স তখন ১৭ হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো কারাগারে আছেন।

Advertisements