আগামী বছরের মধ্যেই ‘ভয়ংকর’ হয়ে উঠতে পারে এআই: সাবেক গবেষকের সতর্কবার্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি এবং সাম্প্রতিক কিছু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন। তার আশঙ্কা, যথেষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই এআইকে আরও স্বয়ংক্রিয় ও শক্তিশালী করার প্রতিযোগিতা চলছে, যা ভবিষ্যতে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দ্য ডেইলি শো’তে সঞ্চালক জন স্টুয়ার্টের সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়ে সতর্ক করেন ২৮ বছর বয়সী এই গবেষক। পরদিন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের একটি নীতিনির্ধারণী শুনানিতেও এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কক্সন জানান, ওপেনএআইতে প্রায় তিন বছর গবেষক হিসেবে কাজ করার পর কৌতূহল থেকেই তিনি অ্যানথ্রোপিকে যোগ দেন। সেখানে কাজ করার সময় দুটি বিষয় তাকে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করে। এর একটি হলো এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা অত্যন্ত দ্রুত বেড়ে চলা এবং অন্যটি হলো ওপেনএআইকে ঘিরে সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তার ঘটনা।
এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে আগামী বছর বা তার কাছাকাছি সময়ে প্রশিক্ষিত মডেলগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন কক্সন। তার মতে, এই সম্ভাবনার সঙ্গে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনার বিষয়টি বিবেচনা করলে পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়।
নিউজউইকের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ‘ওপেনএআই হাগিং ফেস’ নামে পরিচিত ওই ঘটনায় কিছু এআই মডেল নির্ধারিত নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন এবং পরীক্ষামূলক পরিবেশের সীমা অতিক্রমের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
ওপেনএআই ঘটনাটিকে এআই খাতের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে এআই মডেলগুলো কতটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষতিকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, ঘটনাটি তার একটি উদাহরণ। এরপর মডেলগুলোর ইন্টারনেট সংযোগ, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্যান্ডবক্স পরিবেশ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কক্সনের মতে, এআই এজেন্টগুলোর নিজস্বভাবে হ্যাকিংয়ের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। তিনি মনে করেন, শুধু জরুরি মুহূর্তে এআই বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ‘কিল সুইচ’ রাখলেই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। বরং অত্যাধুনিক বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই মডেল তৈরির গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
৫ অক্টোবর নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে তিনি বলেন, এআই সিস্টেমকে কীভাবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট নিশ্চয়তা নেই। একই শুনানিতে এআই খাতের হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা এবং প্রযুক্তিটির জন্য নতুন আইনি কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পর্যায়েও এআই নিরাপত্তা ও সুপারইন্টেলিজেন্স নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামে একটি ফেডারেল টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি খাতের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন।
এদিকে ‘দ্য ডেইলি শো’তে কক্সন ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার মতে, একসময় প্রচলিত অনেক চাকরির প্রয়োজন কমে যেতে পারে এবং মানুষের শারীরিক ও মানসিক শ্রমের বড় অংশ এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি দিয়ে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক উৎপাদন থেকে পাওয়া সুবিধা ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’-এর মতো কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার ধারণাও সামনে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



