৭ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

প্রতিটি শিশুর শৈশব নিরাপদ হোক, তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হোক: ডা. জুবাইদা রহমান

image-246385-1764853458

প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, শিশুরা নিরাপদ পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে নিজেদের মেধা ও প্রতিভা কাজে লাগিয়ে স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর ভেতরেই সম্ভাবনা ও প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা বিকশিত করার জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে শিশুদের উপযোগী পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশু-কিশোরদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, পাঁচ দশক আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে।

শিশু একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা বলেন, ছবি আঁকা, গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে অসংখ্য শিশু-কিশোর নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিশুদের অধিকার ও শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা। তিনি বলেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

Advertisements

বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. জুবাইদা। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছেও শিশু একাডেমির কার্যক্রম পৌঁছে দিতে হবে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের স্বপ্ন ও প্রতিভা বিকাশের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে ডা. জুবাইদা বলেন, নানা বাধা অতিক্রম করে তাদের নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে গেলে তারা সফল হবে বলেও তিনি আশাবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর শৈশব নিরাপদ হোক, তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাঁদের স্বাগত জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

পরে আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ সময় তারা শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী এবং আলোকচিত্র গ্যালারিও ঘুরে দেখেন।

Advertisements