৬ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

গাজার শিশুরাও ‘শ/ত্রু’, বিতর্কিত মন্তব্য ইসরায়েলি রাজনীতিবিদের

gaza-child

গাজা উপত্যকার মানুষের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের রাজনীতিবিদ মোশে ফেইগলিন। তাঁর দাবি, গাজার ‘প্রকৃত শত্রু’ কেবল হামাস নয়; বরং পুরো গাজা এবং সেখানকার জনগোষ্ঠীই শত্রুপক্ষের অংশ। এমনকি শিশুদেরও তিনি এই সংজ্ঞার বাইরে রাখেননি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেইগলিন তাঁর এই অবস্থান তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত শত্রু হলো গাজা, হামাস নয়।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গাজায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ ও শিশুরাও এই সংঘাতের শত্রুপক্ষের অন্তর্ভুক্ত।

ফেইগলিনের এমন মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, যুদ্ধের মধ্যে বেসামরিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশুদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে আসে।

শুধু গাজার বাসিন্দাদের ‘শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়াতেই থামেননি ইসরায়েলি এই রাজনীতিবিদ। সাক্ষাৎকারে তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া, ভূখণ্ডটিকে স্থায়ীভাবে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সেখানে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে অবস্থান জানান।

ফেইগলিন এসব পদক্ষেপকে শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না; বরং তিনি এগুলোকে ইসরায়েলের ‘নৈতিক দায়িত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজা নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘ সংঘাত আরও গভীর মানবিক সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিশু ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, বাস্তুচ্যুতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

ফেইগলিনের মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে—যেখানে প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে কীভাবে দেখা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও শিশুদের নিরাপত্তার জায়গাটি কোথায়।
গাজা নিয়ে তাঁর এই অবস্থান তাই শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই নয়, বরং চলমান সংঘাতের মানবিক ও নৈতিক দিক নিয়েও নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

Advertisements
Advertisements