২ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

১৯৩ কোটি টাকায় প্রায় পৌনে চার কোটি জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি কিনবে সরকার

IMG_cb2ab14f-8af9-4bb8-b72b-b8e3d50dd40a

দেশের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় পরিমাণে খাওয়ার বড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এই অর্থে কেনা হবে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার চক্র জন্মনিয়ন্ত্রণের খাওয়ার বড়ি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কেনা প্রতিটি চক্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ টাকা ৮৫ পয়সা। এখানে ‘চক্র’ বলতে একজন নারীর এক মাস ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত একটি পূর্ণ প্যাকেট বা কোর্সকে বোঝানো হয়েছে। এই বড়ি সরবরাহের জন্য অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এতে একমাত্র দরদাতা হিসেবে রেনাটা পিএলসির নাম আসে। প্রতিষ্ঠানটিকেই তৃতীয় প্রজন্মের এসব খাওয়ার বড়ি সরবরাহের জন্য কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে পুরো ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। ‘সমাপ্ত ৪র্থ সেক্টর কর্মসূচির অত্যাবশ্যকীয় পরিবার পরিকল্পনা, মা, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার অসমাপ্ত কার্যাবলি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এসব বড়ি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের চলমান সেবা ও সরবরাহব্যবস্থা আরও গতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণকারী সক্ষম দম্পতিদের প্রায় ৩৯ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য খাওয়ার বড়ির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই পদ্ধতির বড়ির সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় তার প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে সরকারি মজুতেও খুব বেশি সময়ের জন্য বড়ি নেই। বিদ্যমান মজুত দিয়ে এক মাসেরও কম সময়ের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সরবরাহে যাতে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্যই জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে বিপুল পরিমাণ খাওয়ার বড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই ক্রয় কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো পরিবার পরিকল্পনা সেবার আওতায় থাকা মানুষের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত এই পদ্ধতির সরবরাহ অব্যাহত রাখা।

Advertisements
Advertisements