চ্যাটজিপিটিকে ‘আইনি সহকারী’ বানিয়ে সাবেক প্রেমিকার বিরুদ্ধে জয় যুবকের

আইনজীবীর খরচ বহন করার সামর্থ্য না থাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নিয়ে আদালতে নিজের মামলাটি নিজেই পরিচালনা করেছেন যুক্তরাজ্যের এক দমকলকর্মী। শেষ পর্যন্ত সাবেক প্রেমিকার কাছ থেকে দেওয়া ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পাওয়ার পক্ষে রায় পেয়েছেন তিনি।
৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম ক্রেইগ টিচেনার। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ‘উইন্টার ওয়ান্ডারলাইনস’ লটারি স্ক্র্যাচকার্ড থেকে তিনি ২ লাখ পাউন্ড পুরস্কার পান।
পরে ২০২২ সালে তৎকালীন প্রেমিকা হিদার ডগলাসকে ৪০ হাজার পাউন্ড দেন টিচেনার। পেশায় সাইকিয়াট্রিক নার্স ডগলাসের আর্থিক বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকায় ওই অর্থ তার হয়ে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল যে অর্থটি প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগ করা হবে। সেখান থেকে যে মুনাফা আসবে, তা দুজন ভাগ করে নেবেন।
কিন্তু পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে বিচ্ছেদ হয়। এরপর নিজের দেওয়া ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত চান টিচেনার। ডগলাস অর্থ ফেরত দিতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
প্রথমদিকে টিচেনার আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মামলাটি পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ আইনি খরচ প্রয়োজন ছিল, তা তার সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়। তখন বিকল্প হিসেবে তিনি চ্যাটজিপিটির সাহায্য নেন।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে আদালতের প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ, মামলার প্রস্তুতি এবং শুনানিতে নিজের বক্তব্য কীভাবে উপস্থাপন করবেন—এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে নির্দেশনা নেন তিনি। পরে সেই প্রস্তুতির ভিত্তিতে সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি কোর্টে নিজেই নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করেন।
টিচেনার আদালতে জানান, আইনজীবী ছাড়া নিজে মামলা পরিচালনা করা তার জন্য সহজ ছিল না এবং এতে ঝুঁকিও ছিল। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আইনজীবী নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির সহায়তা না পেলে মামলাটি সফলভাবে পরিচালনা করা তার জন্য কঠিন হয়ে যেত।
অন্যদিকে হিদার ডগলাস আদালতে দাবি করেন, ৪০ হাজার পাউন্ড তাকে ফেরত দেওয়ার শর্তে দেওয়া হয়নি; বরং এটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। এমনকি নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্টও আদালতে জমা দেননি।
সব পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপিত তথ্য বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত আদালত টিচেনারের পক্ষে রায় দেয়। ফলে ডগলাসের কাছ থেকে ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় তার।
তবে মামলাটিকে ঘিরে ডগলাসের পক্ষ থেকেও অভিযোগ ছিল। তিনি দাবি করেন, টিচেনার তাকে হয়রানি করার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন আইনি তথ্য বোঝা ও আদালতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করতে এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে আদালতে কোনো আইনি বিষয়ে এআইয়ের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে পেশাদার আইনি পরামর্শের বিকল্প হিসেবে সেটিকে দেখার বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।



