৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

৩৪ হাজার ফুট ওপরে দুই পাইলটের হাতা’হাতি, মুহূর্তেই নেমে গেল বিমান!

untitled-1790761653

৩৪ হাজার ফুট ওপরে তখন উড়ছিল যাত্রীবাহী বিমানটি। গন্তব্য ইসরায়েলের তেল আবিব। সবকিছুই চলছিল স্বাভাবিকভাবে। হঠাৎ ককপিটের ভেতর শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা। দুই পাইলটের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা গড়ায় হাতাহাতিতে। আর এর পরপরই এমন কিছু ঘটতে থাকে, যা মুহূর্তেই সাধারণ একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটকে পরিণত করে ভয়াবহ আতঙ্কের ঘটনায়।

বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ঘটে এই ঘটনা। উড়োজাহাজটি তখন সৌদি আরবের আকাশসীমার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মিনিটের কিছু বেশি সময়ে বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে নেমে আসে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ ফুটে—অর্থাৎ প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে।

বিমানের এমন অস্বাভাবিক অবতরণই প্রথমে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। এর কিছুক্ষণ পরই উড়োজাহাজ থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত ৭৭০০ এবং পরে সম্ভাব্য বেআইনি হস্তক্ষেপ বা ছিনতাই বোঝাতে ব্যবহৃত ৭৫০০ সংকেতও সক্রিয় করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে আবার ৭৭০০ সংকেত দেওয়া হয়। ব্যস, এতেই শুরু হয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা-উদ্বেগ। বিমানটি যেহেতু তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল এবং সংকেতটি ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছিল, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি সংকেত পাওয়ার পর যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করা হয়েছিল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতির চিত্র বদলে যায়। প্রাথমিক আশঙ্কার মতো এটি কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা নয় বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান। বরং বিমানটির ভেতরে, বিশেষ করে ককপিটে, পাইলটদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ একটি গুরুতর ঘটনার দিকেই তদন্তের নজর যায়।

এরই মধ্যে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের পরিবর্তে সেটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুকের দিকে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী তথ্য জানাবে।

বিমানের যাত্রীদের বর্ণনাতেও উঠে এসেছে সেই আতঙ্কের মুহূর্তের ছবি। সামনের দিকের কয়েকজন যাত্রী ককপিটের দিক থেকে চিৎকার ও ঝগড়ার শব্দ শুনেছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। বিমানটি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনাও তাদের আতঙ্কিত করে।

Advertisements

ঘটনার আরও কিছু চাঞ্চল্যকর বিবরণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কোথাও দাবি করা হয়েছে, হাতাহাতির সময় একজন পাইলট আহত হয়েছেন; আবার কিছু প্রতিবেদনে একজন পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটিকে নিচের দিকে নামানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে স্বস্তির খবর একটাই—বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নেমেছে এবং যাত্রীরা নিরাপদ আছেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের সেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নতুন করে সামনে আনল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: হাজার হাজার ফুট ওপরে থাকা একটি যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে পাইলটদের মধ্যকার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে?

তদন্ত এগোলে হয়তো জানা যাবে, ঠিক কী ঘটেছিল সেই ককপিটে। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো—ছিনতাই নয়, পাইলটদের মধ্যকার এক গুরুতর ঘটনার পরই বিমানটি জরুরি অবতরণ করে সৌদি আরবে।

Advertisements