২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

যে প্রশ্ন করতে লজ্জা পান, আজই করে ফেলুন

GK-9-2024-01-77a3a64df8df872ce0c2c1db8ab33dbc

‘সাবানের ফেনা সাদা হয় কেন?’, ‘স্বপ্নের মধ্যে কি মানুষ নিজেকে ঘুমাতে দেখতে পারে?’, ‘আয়না কি নিজের প্রতিবিম্ব নিজে দেখতে পায়?’—এমন প্রশ্ন শুনলে অনেকেরই হয়তো হাসি পেতে পারে। কিন্তু মনের মধ্যে আসা প্রশ্ন প্রকাশ করতে গিয়ে যেন কেউ বিব্রত না হন, সেই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে আজকের বিশেষ দিনে।

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে ‘বোকা প্রশ্ন করার দিন’ (Ask a Stupid Question Day)। নামের মধ্যেই মজার বিষয় থাকলেও দিবসটির উদ্দেশ্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ—মানুষকে নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা এবং কৌতূহল প্রকাশের ক্ষেত্রে সংকোচ দূর করা।

দিবসটির যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে, বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে। সে সময় কয়েকজন শিক্ষক লক্ষ্য করেন, সহপাঠীদের হাসি-ঠাট্টা কিংবা সমালোচনার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রশ্ন করতে চায় না। ফলে জানার আগ্রহ থাকলেও অনেক বিষয় তাদের অজানাই থেকে যায়।

শিক্ষার্থীদের এই ভয় কাটাতে এবং প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে একটি বিশেষ দিন পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ‘Ask a Stupid Question Day’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালনের প্রচলন দেখা যায়।

শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রশ্নের গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে প্রশ্ন করা যেমন শেখার পথ সহজ করে, তেমনি একটি সাধারণ প্রশ্ন থেকেই কখনো নতুন কোনো ধারণা বা আবিষ্কারের সূত্র মিলতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন করার জন্য কেউ উপহাসের শিকার হলে তার মধ্যে ভবিষ্যতে প্রশ্ন করার অনীহা তৈরি হতে পারে।

তাই এই দিবসের মূল কথা হলো—জানতে চাওয়ার জন্য কোনো প্রশ্নই অপ্রয়োজনীয় নয়। প্রশ্নটি যত সহজ, অদ্ভুত বা সাধারণ মনে হোক না কেন, তার পেছনে থাকে জানার আগ্রহ।

Advertisements

দিনটি উপলক্ষে নিজের মনে জমে থাকা এমন কোনো প্রশ্ন করা যেতে পারে, যা এতদিন লজ্জা বা সংকোচের কারণে করা হয়নি। একই সঙ্গে অন্য কেউ কোনো অদ্ভুত প্রশ্ন করলে তাকে নিয়ে হাসাহাসি না করে উত্তর খুঁজে পেতে সহযোগিতা করাও হতে পারে এই দিবস পালনের অন্যতম সুন্দর উপায়।

Advertisements