পিরিয়ডের সময় বেশি ঠান্ডা লাগে কেন? জেনে নিন কারণ

পিরিয়ডের সময় নারীর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। মেজাজের ওঠানামা, খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কিংবা পেটে ব্যথার পাশাপাশি অনেকের এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঠান্ডা লাগতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অনুভূতিকে অনেকে ‘পিরিয়ড চিলস’ বলে থাকেন। কিন্তু পিরিয়ডের সময় এমনটা কেন হয়?
হরমোনের পরিবর্তনেই কি ঠান্ডা লাগে?
পিরিয়ডের সময় ঠান্ডা লাগার অন্যতম কারণ হতে পারে হরমোনের স্বাভাবিক ওঠানামা। ডিম্বস্ফোটনের পর শরীরে প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বাড়ে। এতে শরীরের মূল তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমে আসে। এই পরিবর্তনের কারণে কারও কারও ঠান্ডা লাগতে পারে, বিশেষ করে হাত-পায়ে।
পিরিয়ড চলাকালীন অতিরিক্ত রক্তপাত থাকলেও ঠান্ডা লাগার অনুভূতি বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বেশি রক্তপাত হলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি তৈরি হয়ে আয়রন-ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া হতে পারে। এর ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে।
এ ছাড়া পিরিয়ডের সময় ক্ষুধা কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ঘুমের সমস্যা এবং ব্যথার কারণেও শরীর দুর্বল বা ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
পিরিয়ডের সময় ঠান্ডা লাগা কমাবেন যেভাবে
এ সময় শরীরকে আরাম দিতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে—
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, মসুর ডাল, শিম, তিল ও চর্বিহীন মাংস খান।
- আয়রন শোষণে সহায়তার জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়।
- প্রয়োজন অনুযায়ী স্তরে স্তরে পোশাক পরুন।
- গরম পানীয় পান করতে পারেন।
- শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ড চালু রাখুন।
ক্র্যাম্পের সঙ্গে ঠান্ডা লাগার সম্পর্ক
পিরিয়ডের সময় শরীরে হরমোনের পরিবর্তন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি এ সময় প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের রাসায়নিক পদার্থের কার্যক্রম বাড়ে। এগুলো জরায়ুর সংকোচন ঘটিয়ে পিরিয়ডের ব্যথা বা ক্র্যাম্পের জন্য দায়ী।
প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে ঠান্ডা লাগা বা কাঁপুনি ধরনের অনুভূতি হতে পারে।
পিরিয়ডের সময় শরীরের রক্তপ্রবাহেও পরিবর্তন ঘটে। জরায়ুর সংকোচন ও রক্তপাতের সঙ্গে শরীরের কেন্দ্রীয় অংশে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে হাত-পায়ের মতো প্রান্তীয় অংশ তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
তবে পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগার সঙ্গে যদি খুব বেশি রক্তপাত, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বারবার অতিরিক্ত রক্তপাত হলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।



