২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

রিলসে দেখাতেন টাকার বান্ডিল-সোনার গয়না, এবার ইনফ্লুয়েন্সারের বাড়িতেই কোটি টাকার চুরি

file_1790496394

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার রিল মানেই ছিল চোখধাঁধানো বিলাসিতা। কখনো টাকার বান্ডিল, কখনো শরীরজুড়ে ভারী সোনার গয়না, আবার কখনো হীরার অলংকার—নিজের সম্পদের ঝলক অনুসারীদের সামনে তুলে ধরতেই যেন অভ্যস্ত ছিলেন ভারতের তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মধুমিতা। এমনকি এক ভিডিওতে শিশুর গায়েও ছড়িয়ে দিতে দেখা যায় নগদ রুপি।

নিজের বিপুল সম্পদ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও দ্বিধা ছিল না তার। এক ভিডিওতে মূল্যবান জিনিসপত্র কীভাবে নিরাপদে রাখতে হয়, সেটিও জানেন বলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সেই বিলাসী জীবনের ছবিই এবার তার জন্য নতুন বিপদের সূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধুমিতার বাড়ি থেকেই চুরি হয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরার গয়না এবং নগদ অর্থ। পুলিশের হিসাবে, চুরি যাওয়া সম্পদের মোট মূল্য প্রায় এক কোটি রুপি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জানায়, তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলার নাগেরকোয়েলের ভিআইপি গার্ডেন এলাকায় মধুমিতার পারিবারিক বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। সাড়ে চার লাখের বেশি অনুসারী থাকা এই ইনফ্লুয়েন্সারের বাড়ি থেকে প্রায় ১২০ ভরি সোনা ও হীরার গয়না এবং ৫০ হাজার রুপি নগদ খোয়া গেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটার জন্য বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন মধুমিতা। সেই সুযোগেই বাড়িতে ঢোকে চোরের দল। বাড়ি ফাঁকা থাকার বিষয়টি কাজে লাগিয়ে তারা ভেতরে প্রবেশ করে লকার ভেঙে মূল্যবান গয়না ও নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়।

কেনাকাটা শেষে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে প্রথমে বিষয়টি টের পান। পরে লকার ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। লকার খুলে দেখা যায়, ভেতরে রাখা মূল্যবান গয়নার প্রায় সবই উধাও। তবে এই চুরির ঘটনায় তদন্তের সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে মধুমিতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম। কারণ, নিয়মিত প্রকাশ করা তার রিল ও ভিডিওতে শুধু ব্যক্তিগত জীবনযাপনের ছবি নয়, বরং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মূল্যবান গয়নার প্রদর্শনও ছিল।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এসব প্রকাশ্য প্রদর্শনীই চোরদের কাছে কোনোভাবে তথ্যের উৎস হয়েছিল কি না। মধুমিতার পোস্ট করা ভিডিও থেকে তার পরিবারের অবস্থান, বাড়ির পরিস্থিতি কিংবা সেখানে মূল্যবান সামগ্রী থাকার বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়েছিল কি না—সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

Advertisements

বিশেষ করে নগদ রুপির বান্ডিল, গা-ভর্তি স্বর্ণালংকার কিংবা শিশুর গায়ে টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ভিডিওগুলো পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এসব কনটেন্ট সরাসরি চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চুরির রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা, পরিবারের গতিবিধি এবং মধুমিতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য—সবকিছু মিলিয়েই এগোচ্ছে তদন্ত।

ঘটনাটি আবারও সামনে আনছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ ও দৈনন্দিন গতিবিধি প্রকাশের ঝুঁকির বিষয়টি। অনুসারীদের কাছে যে জীবনযাপন আকর্ষণীয় মনে হয়, সেটিই কখনো কখনো অপরাধীদের কাছেও মূল্যবান তথ্য হয়ে উঠতে পারে—মধুমিতার বাড়ির চুরির ঘটনা যেন তারই বাস্তব উদাহরণ।

Advertisements