২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

গর্ভবতী মায়েরা সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেনগুঁড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা ক্লিনিকের ধ্বং’সস্তূপের মাঝেই শতাধিক শিশুকে টিকাদান

Radda-Hospital-968ad6-720×405

একদিন আগেও যেখানে ছিল একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পরদিন সেখানেই পড়ে আছে ভাঙা ভবনের ধ্বংসস্তূপ। নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, নেই স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবার পরিবেশ। তবু থেমে থাকেনি টিকাদান কর্মসূচি। খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টাঙিয়ে শতাধিক শিশুকে টিকা দিয়েছে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার।

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার একদিন পর, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে শিশুদের টিকাদান।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, ওই সময়ের মধ্যে ১০০ জনের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে ওঠা এই কেন্দ্রটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে সেবা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নাসরিন আখতার বলেন, এলাকার বেশিরভাগ মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। তাই ভবন না থাকলেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।

নিরাপত্তার বিষয়েও আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের পাশে রয়েছেন। ফলে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

নাসরিন আখতারের কথায়, এই সেবা একদিনে গড়ে ওঠেনি। প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছে। দীর্ঘ সময়ের সেই সম্পর্ক থেকেই তৈরি হয়েছে মানুষের আস্থা। ভবনটি না থাকলেও সেই আস্থার জায়গাটিই তাদের সেবা চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দিচ্ছে।

Advertisements

শনিবারের অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে দেখা গেছে, অনেক বাবা-মা সন্তানদের নিয়ে হাজির হয়েছেন। ভবনের পরিবর্তে ত্রিপলের নিচে বসেই শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হলেও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীরা সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কারণ, ভবনটি উচ্ছেদের পর ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নাসরিন আখতার জানান, গর্ভবতী মায়েরা সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন—এ বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। কারণ বর্তমানে কেন্দ্রের ভেতরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা সেবা দেওয়ার মতো অবকাঠামো কিছুই নেই।

একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন হয়তো ভেঙে দেওয়া যায়, কিন্তু মানুষের সঙ্গে বছরের পর বছর গড়ে ওঠা সম্পর্ক এত সহজে ভাঙে না—মিরপুরের এই অস্থায়ী টিকাদান কার্যক্রম যেন সেই বাস্তবতারই একটি দৃশ্য। ধ্বংসস্তূপের পাশেই ত্রিপলের নিচে বসে শিশুদের টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আপাতত সেই সেবার ধারাবাহিকতাই ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

Advertisements