২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

পথকুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে তরুণীকে মারধরের অভিযোগ, বনশ্রীতে চাঞ্চল্য

1606517654_5fc1839694b0e_dogs

রাজধানীর বনশ্রীতে পথকুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে এক তরুণী মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে এফ ব্লকের লাল মিয়া গলিতে ঘটে এ ঘটনা। আহত তরুণী সুমাইয়া রহমানের অভিযোগ, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তাকে মারধর, গালাগাল ও নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে তিনি খিলগাঁও থানায় অভিযোগ করেন।

সুমাইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে নিয়মিত খাবার দেওয়ার অংশ হিসেবে তিনি কয়েকটি পথকুকুরকে খাবার দিতে ওই এলাকায় যান। একটি কাপড়ের দোকানের সামনে কুকুরগুলোকে খাবার দেওয়ার সময় কয়েকটি কুকুর দোকানের সিঁড়িতে উঠে যায়। এ নিয়ে দোকানের সামনে থাকা ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই কিশোর তাকে গালাগাল করে বলে অভিযোগ করেন সুমাইয়া।

এর কিছুক্ষণ পর দোকানের ভেতর থেকে ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী এক তরুণ বেরিয়ে এসে তার মুখে ঘুষি মারেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সুমাইয়ার অভিযোগ, ওই তরুণ আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন। পরে সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো মানুষ জড়ো হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন তাকে মারধর করেন, অন্যরা গালাগাল ও হেনস্তা করেন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে পরিস্থিতি চলার পর সেখান থেকে সরে যেতে সক্ষম হন তিনি।
ঘটনার সময় সুমাইয়ার সঙ্গে ছিলেন আসিফ ইমতিয়াজ, যিনি নিজেও ওই এলাকায় পথকুকুরকে খাবার দেন। তার দাবি, প্রথম দিকে দোকানের সামনে থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হলে তারা দ্রুত চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সুমাইয়াকে মারধর করা শুরু হয়। তিনি সহায়তার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি বলে জানান।

হামলার পর সুমাইয়া জানান, তার মুখ, চোখের নিচে, হাত, পিঠ ও চোয়ালে আঘাত লাগে। পরদিন সকালে তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। সুমাইয়ার ভাষায়, চোয়াল ও পিঠে সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন তিনি।

চিকিৎসা নেওয়ার পর খিলগাঁও থানায় অভিযোগ করেন সুমাইয়া। পরে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তার দাবি, ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময়ও অভিযুক্তদের কয়েকজনের আচরণে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, মাইনুলের ভাই তার দিকে বারবার আগ্রাসী ভঙ্গিতে এগিয়ে এসে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করছিলেন। হামলার পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তার ভয় আরও বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যেও উঠে এসেছে দোকানের জায়গা নোংরা হওয়া নিয়ে আপত্তির বিষয়টি। স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, কুকুরকে খাবার দেওয়ার কারণে দোকানের আশপাশ নোংরা হয়ে যাওয়ায় দোকানের কর্মীরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে দোকানের মালিকের তর্ক হয় বলেও জানান তিনি।

Advertisements

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, সুমাইয়াকে প্রথম আঘাত করা ব্যক্তির নাম শুভ। তার দাবি, শুভ স্থানীয় বিএনপি নেতা মাইনুল ও হালিমের সহযোগী এবং পরে তিনিই ঘটনাস্থলে আরও লোকজন ডেকে আনেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সুমাইয়ার ওপর হামলার ঘটনা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলেও কারা এতে সরাসরি জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আজহারুল ইসলাম সুমাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

একদিকে পথপ্রাণীকে খাবার দেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি, অন্যদিকে সেই আপত্তিকে কেন্দ্র করে একজন নারীর ওপর হামলার অভিযোগ—ঘটনাটি নিয়ে বনশ্রীর ওই এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা, সেদিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন।

Advertisements