সন্তান মাদকাসক্ত কি না বুঝবেন কীভাবে?

কিশোর-তরুণদের অনেকেই পরিবারের নজর এড়িয়ে মাদক গ্রহণ করতে পারে। বয়সের কারণে তাদের আচরণে স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তনও দেখা যায় বলে অনেক সময় মাদক গ্রহণের বিষয়টি সহজে বোঝা যায় না। তবে আচরণ, শারীরিক পরিবর্তন ও দৈনন্দিন জীবনে একাধিক অস্বাভাবিকতা দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
আচরণে পরিবর্তন
মাদক গ্রহণের ক্ষেত্রে সন্তানের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। পরিবারের সঙ্গে আগের মতো মিশতে না চাওয়া, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, অতিরিক্ত রাগ, বিরক্তি, জেদ কিংবা মারমুখী হয়ে ওঠার মতো আচরণ দেখা যেতে পারে। পড়ালেখা ও দৈনন্দিন কাজেও অনীহা তৈরি হতে পারে। নির্দিষ্ট সময় বাইরে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়া কিংবা কেউ তাকে সন্দেহ করছে কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত গোপনীয়তা
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সন্তান আগের তুলনায় বেশি গোপনীয় হয়ে উঠতে পারে। কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে বা কখন ফিরবে—এ ধরনের সাধারণ প্রশ্নেও অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। নিজের ঘরে বাবা-মায়ের প্রবেশে বিরক্ত হওয়া, এমনকি দরজায় নক করলেও রেগে যাওয়ার মতো আচরণও দেখা যেতে পারে।
শারীরিক পরিবর্তন
মাদক গ্রহণের ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসে। এর মধ্যে ঘুমের স্বাভাবিকতা নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চোখ লালচে হয়ে যাওয়া, ক্ষুধামান্দ্য ও ওজনের পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য। তবে কোন মাদক গ্রহণ করা হচ্ছে তার ওপর শারীরিক লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে।
আর্থিক অসামঞ্জস্য
হঠাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হাতখরচ চাওয়া কিংবা টাকা না পেলে অস্বাভাবিক আচরণ করা সন্দেহের কারণ হতে পারে। অনেক সময় পরিবারের গচ্ছিত অর্থ হারিয়ে যেতে পারে। বাড়ির বিভিন্ন জিনিসও বারবার খুঁজে না পাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
আরও যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন
সন্তানের ঘরে অস্বাভাবিক গন্ধ, মাদক গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো উপকরণ পাওয়া, সন্দেহজনক এলাকায় তার যাতায়াত কিংবা মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—এসব বিষয়ও নজরে রাখা প্রয়োজন।
তবে এসবের একটি বা দুটি লক্ষণ দেখা গেলেই সন্তান মাদকাসক্ত—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। একাডেমিক চাপ, পারিপার্শ্বিক সমস্যা বা মানসিক পীড়নের কারণেও কিশোর-তরুণদের আচরণে একই ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তাই একাধিক পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যাচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তানকে সুপথে ফেরাতে করণীয়
সন্তান মাদক গ্রহণ করছে বলে সন্দেহ হলে প্রথমেই তাকে ধমক, অপমান বা মারধর করা যাবে না। ঘরবন্দী করে কঠোর শাসন করাও পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। বরং তার সঙ্গে আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে জীবনে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানার চেষ্টা করতে হবে।
সে কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয়ে খোঁজ রাখা জরুরি। তবে জেরা করার মতো করে নয়; বরং তার নিরাপত্তার কথা ভেবেই এসব জানতে চাওয়া হচ্ছে, এমনভাবে কথা বলতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
সরাসরি মাদকের বিষয়ে কথা বললে সন্তান বিষয়টি অস্বীকার করতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে শারীরিক পরীক্ষার কথা বলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকের সঙ্গে আগে থেকেই নিজের সন্দেহের বিষয়টি জানিয়ে রাখা ভালো, যাতে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী কৌশলীভাবে বিষয়টি সামলাতে পারেন।
মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসার পাশাপাশি মনোবিদের সহায়তাও প্রয়োজন হতে পারে।



