বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
নারী

ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেন ওকাসিও, রয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনাও

1775874845264

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ জানিয়েছেন, প্রজনন চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিও ও পোস্টের মাধ্যমে ডিম্বাণু সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার শুরুর দিকের নিজের অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি।

৩৬ বছর বয়সী ওকাসিও-কর্টেজ গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন। ভিডিওগুলোতে তাকে ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইনজেকশন নিতে দেখা যায়। সেখানে তিনি এই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে নিজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেন ওকাসিও-কর্টেজ। সেখানে তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণের খরচ, চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ, সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে দেওয়া হয়—এসব বিষয়ে কথা বলেন।

ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হওয়াকে তিনি স্বাভাবিক করে তুলতে চান। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের ব্যক্তিগত ও প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি।

Advertisements

ডেমোক্র্যাট এই কংগ্রেস সদস্য বলেন, বর্তমান প্রশাসন দেশজুড়ে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের গর্ভপাতের অধিকার থেকে শুরু করে সুস্থভাবে গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, নেতৃত্বের জায়গায় থাকা ব্যক্তিদের এসব বিষয়ে কথা বলা প্রয়োজন। নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং প্রজননস্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

এর আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টেও ডিম্বাণু সংরক্ষণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার কারণ ব্যাখ্যা করেন ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি জানান, বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে। তারপরও নিজের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা

ডিম্বাণু সংরক্ষণের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ওকাসিও-কর্টেজের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের দেখতে চান ভোটারদের একটি অংশ, তাদের মধ্যে ওকাসিও-কর্টেজের নামও রয়েছে।

এ বিষয়ে এবিসি নিউজের অনুষ্ঠানে তাকে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি। বরং প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেন এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, এই মুহূর্তে তার প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পাওয়া। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি কংগ্রেসে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য লড়াইয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন কি না—এ নিয়ে আরও চাপ দিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, তিনি এই সম্ভাবনাকে নাকচ করেননি।

তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে যে বিপুল সমর্থন তিনি পাচ্ছেন, তাতে তিনি সত্যিই অভিভূত এবং কৃতজ্ঞ।

তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন তাদের দায়িত্ব হলো আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে মনোযোগ ধরে রাখা। ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা কিংবা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার দিকে মনোযোগ না দিয়ে বর্তমান নির্বাচনের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সিনেট নির্বাচনে লড়ার প্রশ্নেও বললেন ‘সবকিছুই সম্ভব’

সিনেট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের বিরুদ্ধে ওকাসিও-কর্টেজ লড়তে পারেন কি না—এমন প্রশ্নও করা হয় তাকে।

জবাবে তিনি সরাসরি কোনো সম্ভাবনা নাকচ করেননি। বরং সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘সবকিছুই সম্ভব।’

ওকাসিও-কর্টেজের এমন মন্তব্যের পর তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি এখনই কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি।

সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দুই বছর পরপর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর নাম ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন’।

চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচন নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে ভোট হবে। পাশাপাশি ১০০ সদস্যের মার্কিন সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে ওকাসিও-কর্টেজের রাজনৈতিক মনোযোগ মূলত এই মধ্যবর্তী নির্বাচনেই। তবে ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনা এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করার মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

Advertisements
ওকাসিওডিম্বাণুনির্বাচনপ্রেসিডেন্ট