মনের জোরে ৬৩ বছরে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হলেন সুশীলা

বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে হয়তো করতে হচ্ছে কেরানির চাকরি। ছাইচাপা পড়েছে স্বপ্ন!
কিংবা হয়তো ফ্যাশন ডিজ়াইনার হতে চেয়েছিলেন কেউ। তবে এখন নিজেকে সাজানোরও সময় পান না। স্বামী-সংসার-সন্তান সামলেই হিমসিম। তবু পুরনো স্বপ্ন রাত জাগায় মাঝে মধ্যে।
আশপাশে খুঁজলে এমন মানুষ পাওয়া যাবে অনেক। সংখ্যায় অল্প তাঁরা, যাঁরা প্রতিকূলতা পেরিয়েও নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার সাহস দেখিয়েছেন। হরিয়ানার রেওয়াড়ী জেলার ভাড়াঙ্গি গ্রামের সুশীলা দেবী সেই গুটিকয় ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়েন।
সুশীলার বয়স ৬৩। স্বপ্ন দেখেছিলেন ভোটে জিতে গ্রামের পঞ্চায়েতপ্রধান হওয়ার। অথচ তার জন্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার, তা ছিল না তাঁর। পাঁচ দশক আগে পঞ্চম শ্রেণির গণ্ডি পেরোতে না পেরোতেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয় সুশীলার। দশ বছরের বালিকার প্রতিবাদ করার ক্ষমতা ছিল না। কিন্তু ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা প্রাণপণ পরিশ্রম করে বাধা পেরোলেন।
সুশীলা চলতি বছরে দশমের বোর্ডের পরীক্ষায় বসেছিলেন। আর তাতে কেবল পাশ করেননি, প্রথম বিভাগে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে দশমোত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তাঁর মোট প্রাপ্ত নম্বর শতাংশের হিসাবে ৭৯.৬ শতাংশ। এর মধ্যে ইংরেজিতে তিনি পেয়েছেন ৮৯, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ৮৮, অঙ্কে ৭৮, আঁকায় ৭৬ এবং হিন্দিতে ৬৭। তবে ৬৩ বছর বয়সে দশম শ্রেণির পড়াশোনার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। কী করে তা পেরেছিলেন, সেই কাহিনি শুনিয়েছেন সুশীলা।



