এক সপ্তাহেই সবজির দাম দ্বিগুণ, নাগালের বাইরে ইলিশ মাছ

রাজবাড়ীতে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি ও মাছের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো সবজির দাম প্রায় তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা। বাজারে এখন ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলা ভার। অন্যদিকে রুপালি ইলিশের পাশাপাশি চাষের পাঙাস, রুই, কাতলা ও সিলভার কার্প মাছের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
রাজবাড়ী শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ও মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও যে ঢ্যাঁড়শ ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছিল, সেটি এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়। ৭০-৮০ টাকার কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, উস্তা ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৪০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, ধুন্দুল ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা থেকে ৭০ টাকা এবং পটল ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকার মাঝারি আকারের লাউ কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকায়। বাজারে তুলনামূলক কম দামের সবজি বলতে রয়েছে কেবল পেঁপে (৪০ টাকা কেজি)।
সবজির চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা মাছের বাজারে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে। আর ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এর পাশাপাশি চাষের পাঙাস, রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পসহ সাধারণ মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতা রাইহান শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এলে পরিবারের জন্য কয়েক দিনের সবজি ও কিছু মাছ কিনে বাড়ি ফেরা যেত। এখন ৫০০ টাকায় শুধু কয়েক ধরনের সবজি কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। মাছ কেনার সুযোগই থাকে না।’
আরেক ক্রেতা রাজ্জাক মণ্ডল আক্ষেপ করে বলেন, ‘ইলিশ এখন গরিবের স্বপ্নের মাছ। ছোট ইলিশ কেনারও সামর্থ্য নেই। এমনকি পাঙাস মাছের দামও কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। আয় বাড়েনি, কিন্তু প্রতিদিন বাজারের খরচ বাড়ছে।’
বিক্রেতারা অবশ্য এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অতিবৃষ্টি ও সরবরাহ ঘাটতিকে দায়ী করছেন। সবজি বিক্রেতা রাজু মণ্ডল ও ইমান আলী জানান, টানা বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে পানি জমে কৃষকদের সবজি নষ্ট হয়েছে। আড়তেই সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তবে বর্তমানে চাল ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও চিনি আতপ চালের দাম অনেকটাই বেড়েছে। লাগামহীন এই মূল্যবৃদ্ধির শিকল থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকারী হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় সবজি উৎপাদন ও ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়া, এটি একটি মৌসুমি প্রভাব। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং নতুন উৎপাদন শুরু হলে বাজারে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে দাম আবার ধীরে ধীরে নেমে আসবে।



