বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
বিবিধ

ট্রাম্পকে নিজের জনপ্রিয়তায় মন দিতে বললেন মেলোনি

ট্রাম্পকে নিজের জনপ্রিয়তায় মন দিতে বললেন মেলোনি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বাগযুদ্ধের তীব্রতা আরও বেড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মেলোনির রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ছবি তোলারর জন্য তার কাছে ‘বারবার অনুনয়’ করেছিলেন। এরপরই ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মেলোনি।

শনিবার (২০ জুন) ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ‘জনপ্রিয়তার দিক থেকে বেশ খারাপ অবস্থায় আছেন’। একইসঙ্গে ইরানের ‘পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা তৈরি’ রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় মেলোনি সমর্থন দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, মেলোনি তার সঙ্গে ‘আবারও বন্ধুত্ব করতে চান’।

ছবি তোলার জন্য মেলোনি তার কাছে ‘অনুনয়’ করেছিলেন—ট্রাম্পের এমন দাবি ইতালির প্রধানমন্ত্রী অস্বীকার করার পরপরই ট্রাম্প নিজের অনড় অবস্থান জানান। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলন চলাকালীন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।’

ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তার পারদ এখন তলানিতে। এর কারণ সম্ভবত এটাই যে, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে না পারে, সেই উদ্যোগে তিনি পাশে থাকেননি।’ তিনি বলেন, ইরানে হামলার জন্য মেলোনি ‘আমাদের ইতালির বিমানঘাঁটিও ব্যবহার করতে দেননি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘এখন যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানকে পরাস্ত করার পর নিজের জনপ্রিয়তার গ্রাফ বাড়াতে উনি আবার বন্ধু হতে চাইছেন। না, ধন্যবাদ!!!’

পাল্টা জবাবে ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের এই ‘অনবরত এবং বিনা উসকানিতে আক্রমণ’ আসলে ‘অর্থহীন’।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তার কথা যদি বলি, আপনার বন্ধু হওয়াটা নিশ্চিতভাবেই তাতে কোনো সাহায্য করেনি। আর আমার জনপ্রিয়তা আপনার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরও করে না।’

মেলোনি আরও বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আমার পরামর্শ, আপনি বরং নিজেরটাতেই মন দিন।’

এর আগে শনিবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য ইতালির বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দিয়ে মেলোনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বিরাট লজিস্টিক্যাল সমস্যা’ তৈরি করেছেন।

তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতালির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা ইতালি সবসময় মেনে চলেছে। মেলোনি বলেন, ‘যতদিন আমি প্রধানমন্ত্রী আছি, ততদিন এই চুক্তি কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না।’

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি ছবি তোলার জন্য ‘অনুনয়’ করেছিলেন— ট্রাম্পের এমন দাবিতে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন মেলোনি।

চলতি বছরে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরছিল। এই চলমান তাগযুদ্ধ সেই কূটনৈতিক বিরোধকেই আরও উসকে দিল। এই উত্তেজনার জেরে আগামী সপ্তাহের শুরুতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-বেঁ-তে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে বেশ কিছুক্ষণ নিবিড় আলাপ করতে দেখা গিয়েছিল।

পরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের সম্পর্কে কোনো বদল আসেনি এবং পারস্পরিক কোনো ক্ষোভও নেই।

কিন্তু এর পরই ইতালির লা-৭ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘উনি (মেলোনি) আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য অনুনয় করছিলেন। তার জন্য আমার মায়া হচ্ছিল। আমি যে তার সঙ্গে কথা বলেছি, তাতেই বোধহয় উনি খুশি।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তীব্র অবিশ্বাস প্রকাশ করে মেলোনি বলেন, ‘আমি সত্যিই স্তম্ভিত।’

এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয় বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জানি না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন।’ ।

মেলোনি বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমের শত্রুদের বিরুদ্ধে তিনি এই ধরনের দৃঢ়তা দেখান না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। উল্টো ওই সব শত্রু দেশের নেতাদের প্রতি তার অনেক বেশি নরম মনোভাব দেখা যায়। তবে তার একটা জিনিস মনে রাখা উচিত, আমি বা ইতালি—কেউই কখনও কারও কাছে অনুনয় করে না।’
মেলোনির এই অনমনীয় অবস্থানের পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়েছে ইতালির গোটা রাজনৈতিক মহল।

দুই নেতার দ্বন্দ্ব অবশ্য নতুন নয়। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মেলোনি। তার প্রতিক্রিয়ায় গত এপ্রিলে ইতালীয় দৈনিক ‘কোরিয়রেরে দেল্লা সেরা’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমার ভুল হয়েছিল।’

এছাড়া পোপ চতুর্দশ লিও-র বিরুদ্ধে ট্রাম্প যখন ‘অপরাধ দমনে দুর্বল ও পররাষ্ট্রনীতিতে অত্যন্ত খারাপ’ হওয়ার অভিযোগ তোলেন, তখন মেলোনি এই মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।

এ দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে একসময় অবশ্য বেশ ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সখ্য ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন মেলোনি।

ইতালিজনপ্রিয়তাট্রাম্পমেলোনিযুক্তরাষ্ট্র