বিয়ের পর পর্দা থেকে দূরে, কেমন আছেন ‘গজনি’র কল্পনা?

বলিউডে দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীর জন্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে আসিন থোট্টুমকাল সেই ব্যতিক্রমী তারকাদের একজন, যিনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সময়েই অভিনয়জগতকে বিদায় জানান। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় মুখ থেকে বলিউডের প্রথম সারির নায়িকাদের একজন হয়ে ওঠার পরও তিনি বেছে নেন সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন।

দক্ষিণী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের নজর কাড়ার পর হিন্দি সিনেমায় নিজের অবস্থান শক্ত করেন আসিন। ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গজনি’ সিনেমা তাকে সারা ভারতের দর্শকের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত করে। আমির খান অভিনীত এই ছবিটি ছিল বলিউডের প্রথম ১০০ কোটি রুপি আয় করা সিনেমা। তামিল ভাষার একই নামের চলচ্চিত্রের হিন্দি রিমেক হিসেবে নির্মিত এ সিনেমায় আসিন অভিনয় করেছিলেন ‘কল্পনা’ চরিত্রে।
ছবিটিতে আমির খানের অ্যাকশন ও শারীরিক রূপান্তর যেমন আলোচনায় ছিল, তেমনি কল্পনা চরিত্রে আসিনের প্রাণবন্ত ও আবেগঘন অভিনয়ও দর্শকদের মন জয় করে। অনেকের মতে, ছবির প্রেম ও আবেগের অংশগুলোকে শক্তিশালী করে তুলতে তার অভিনয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ‘গজনি’র সাফল্যের পর রাতারাতি জাতীয় পর্যায়ের তারকায় পরিণত হন তিনি।

এরপর বলিউডে তার ব্যস্ততা দ্রুত বাড়তে থাকে। একের পর এক জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। সালমান খানের সঙ্গে ‘রেডি’, অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ‘হাউসফুল ২’ ও ‘খিলাড়ি ৭৮৬’, অজয় দেবগনের সঙ্গে ‘বোল বচ্চন’ এবং অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ‘অল ইজ ওয়েল’ সিনেমায় দেখা যায় তাকে।
এসব ছবির বেশিরভাগই বক্স অফিসে সফলতা পায়। বিশেষ করে ‘রেডি’, ‘হাউসফুল ২’ ও ‘বোল বচ্চন’-এর সাফল্য তাকে বলিউডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক নায়িকাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। অল্প সময়েই তিনি নির্মাতা ও প্রযোজকদের পছন্দের অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।
তবে ক্যারিয়ারের এই উজ্জ্বল সময়েই অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আসিন। ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অল ইজ ওয়েল’ ছিল তার অভিনীত শেষ সিনেমা। এরপর আর কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি তাকে।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিয়ে করেন ভারতীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রাহুল শর্মাকে। রাহুল দেশের অন্যতম মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোম্যাক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা। এই সম্পর্কের পেছনেও রয়েছে একটি মজার গল্প। অভিনেতা অক্ষয় কুমারই প্রথম রাহুল ও আসিনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেই পরিচয়ই পরে ভালোবাসা এবং বিয়েতে গড়ায়।
হিন্দু ও খ্রিষ্টান—দুই ধর্মীয় রীতিতেই তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই আসিন ধীরে ধীরে আলোচনার কেন্দ্র থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন এবং পরিবারকেই জীবনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেন।
যেখানে অনেক অভিনেত্রী বিয়ের পর অভিনয়ে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেন, সেখানে আসিন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অনুসরণ করেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তিনি অভিনয়জীবনকে বিদায় জানান। ২০১৭ সালে তাদের সংসারে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান আরিন রায়ন শর্মা।

এরপর থেকে স্বামী ও মেয়েকে ঘিরেই তার জীবন আবর্তিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও খুব বেশি সক্রিয় নন তিনি। মাঝে মধ্যে মেয়ের জন্মদিন কিংবা বিশেষ পারিবারিক মুহূর্তের কিছু ছবি শেয়ার করলেও ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন।
একসময় ভারতের মোবাইল ফোন বাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা মাইক্রোম্যাক্সের বাজার এখন আগের তুলনায় অনেক ছোট হলেও রাহুল শর্মা এখনও প্রযুক্তি খাতের পরিচিত উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন।
বলিউডে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন উঠলেও এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো ইঙ্গিত দেননি আসিন। ফলে তার প্রত্যাবর্তনের আশায় থাকা ভক্তদের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি। এক সময়ের ব্যস্ততম এই অভিনেত্রী বর্তমানে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও তুলনামূলক ব্যক্তিগত জীবনযাপন করছেন, যা তারকাখ্যাতির আলোঝলমলে দুনিয়া থেকে অনেকটাই ভিন্ন।



