বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১ জুন, ২০২৬
এডিটরস পিক

মাথা ছাড়াই ১৮ মাস বেঁচে ছিল যে মোরগ

130320174449-01-headless-chicken

১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি খামারে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা, যা আজও মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাধারণ মোরগ, যার নাম ছিল ‘মাইক’, মাথা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও বেঁচে ছিল টানা ১৮ মাস। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ঘটনাটি ইতিহাসে সত্য ঘটনা হিসেবেই লিপিবদ্ধ রয়েছে।

মাইকের মালিক ছিলেন কৃষক লয়েড ওলসেন। একদিন রাতের খাবারের জন্য মোরগটিকে জবাই করতে গিয়ে তিনি মাইকের মাথায় কুড়াল চালান। কিন্তু ভাগ্যের এক অদ্ভুত খেলায় কুড়ালের আঘাত মোরগটির জুগুলার শিরা সম্পূর্ণ কেটে ফেলতে পারেনি এবং মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ ব্রেইন স্টেম অক্ষত থেকে যায়।

ব্রেইন স্টেম শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন ও হজমের মতো মৌলিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে মাথার বেশিরভাগ অংশ হারিয়েও মাইক জীবিত থাকতে সক্ষম হয়। শুধু তাই নয়, সে দাঁড়াতে পারত, টলমল করে হাঁটতে পারত এবং ডাক দেওয়ারও চেষ্টা করত। যদিও তার স্বাভাবিক ডাকের পরিবর্তে গলা থেকে অদ্ভুত গড়গড়ে শব্দ বের হতো।

মাইকের এই বিস্ময়কর বেঁচে থাকার পেছনে তার মালিকের যত্নও বড় ভূমিকা রেখেছিল। লয়েড ওলসেন একটি আইড্রপার ব্যবহার করে সরাসরি তার খাদ্যনালিতে দুধ, পানি, ভুট্টা ও কেঁচো খাওয়াতেন। নিয়মিত পরিচর্যার কারণে মাইক ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

খুব দ্রুতই ‘মাইক দ্য হেডলেস চিকেন’ জাতীয় খ্যাতি অর্জন করে। তাকে নিয়ে বিভিন্ন সাইডশো আয়োজন করা হয়, আর সে স্থান পায় বিখ্যাত Time ও Life ম্যাগাজিনেও। হাজার হাজার মানুষ এই অদ্ভুত মোরগটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমাত।

বলা হয়, মাইককে প্রদর্শন করে তার মালিক প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার আয় করতেন।

তবে সব বিস্ময়েরই একসময় শেষ আছে।

১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহরে সফরকালে মাইকের মৃত্যু হয়। গলায় জমে থাকা শ্লেষ্মা পরিষ্কার করার জন্য যে সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হতো, সেটি সঙ্গে না থাকায় শ্বাসরোধ হয়ে তার জীবনাবসান ঘটে।

আজও মাইকের জন্মস্থান কলোরাডোর ফ্রুইটা শহরে প্রতি বছর মে মাসে ‘মাইক দ্য হেডলেস চিকেন ডে’ উদযাপন করা হয়। একটি মাথাবিহীন মুরগির এই অবিশ্বাস্য গল্প বিজ্ঞান, ভাগ্য এবং জীবনের অদম্য শক্তির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ইতিহাসে বেঁচে আছে।

মাথা ছাড়ামোরগযুক্তরাষ্ট্র