বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
জীবনযাপন

কম ঘুমই কি খিটখিটে মেজাজের কারণ?

ghum

আপনারও কি সকালে ঘুম থেকে উঠে মেজাজ খিটমিটে মনে হয়? অনেকের আবার বিরক্তি বা ক্লান্তি ভাব কাজ করে। ঘুম থেকে ওঠার পর যেখানে সতেজ অনুভব করার কথা কিন্তু অনেকেই তা করেন না। এর পেছনে ঘুমের পরিমাণ স্বল্প হওয়াকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় শরীর তার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে। তাই বিষয়টি অবহেলা না করে এ নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। ঘুম বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে তা শরীরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, খিটখিটে মেজাজ ও অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির মত বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ঘুম কম হলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে মস্তিষ্ক ঠিক মত কাজ করে না। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার-এর গবেষণায় জানা গেছে, গড়ে পুরুষের তুলনায় নারীদের এক থেকে দুই ঘণ্টা বেশি ঘুমের প্রয়োজন। ২০২১ সালে জার্নাল অব অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডারস-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম কম হলে নারীদের ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা এলোমেলো হয়ে যায়। এর ফলে তারা বেশি খিটখিটে হয়ে ওঠেন, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। হরমোন ও মস্তিষ্কের কাজের জটিলতার কারণে নারীদের এই অতিরিক্ত ঘুম জরুরি।

কম ঘুমের ফলে ধৈর্য কমে যায় ফলে ছোট ছোট বিষয়েও রাগ অনুভব হতে পারে। তখন অন্যদের আচরণ বেশি বিরক্তিকর মনে হতে পারে। খিটখিটে মেজাজের পেছনে কেবল ঘুমের অভাবই নয়, আরও বিভিন্ন কারণ কাজ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মানসিক চাপ বা টেনশন, যেমন-পড়াশোনা, রোম্যান্টিক সম্পর্ক কিংবা কাজের চাপ। এছাড়া অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা ওভারথিংকিং, হরমোনজনিত পরিবর্তন, শারীরিক ক্লান্তি বা অসুস্থতা এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসও মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আমেরিকান ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে বয়সভেদে ঘুমের চাহিদা ভিন্ন হয়। নবজাতকদের ক্ষেত্রে দৈনিক প্রায় ১৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। বয়ঃসন্ধিকালের আগ পর্যন্ত শিশুদের প্রতি রাতে প্রায় ১১ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কারা বেশি রোগাক্রান্ত হন, যারা কম ঘুমান নাকি যারা অতিরিক্ত ঘুমান, এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। এখানে সাধারণভাবে কম ঘুমানো বলতে বোঝানো হয় যারা রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান। অন্যদিকে বেশি ঘুমানো বলতে বোঝানো হয় যারা ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র কম ঘুমই সরাসরি রোগের কারণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে ঘুমের ঘাটতির কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া নিদ্রাহীনতা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে ব্যাহত করতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি মেজাজ নিয়ন্ত্রণে কিছু সহজ অভ্যাস করতে পারলে ভালো। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা ও পর্যাপ্ত পানি পান শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ভালো রাখে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়াও মানসিক চাপ কমাতে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। মেজাজ ভালো রাখতে পছন্দের কোনো কাজ করা ভালো। পাশাপাশি এক্ষেত্রে যোগব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।