বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
বিনোদন

ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়া

বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধের দাবিতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণকর্মী জয়া আহ...

545515151-6a01c3f8aaf47

বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধের দাবিতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণকর্মী জয়া আহসানসহ তিনজন। সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (অভয়ারণ্য) এবং একে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এই আবেদনটি করা হয়।

ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান রিটকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন। আবেদনে বিশেষত অসুস্থ ও জীর্ণ প্রাণীর মাংস সাধারণ মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি বন্ধে উচ্চ আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই পিটিশনকারীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সম্প্রতি গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, অসুস্থ ও বাজেয়াপ্ত ঘোড়ার নিলাম বন্ধ এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীর পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ সুবিধা বা অভয়ারণ্য—বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হোক। পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য অভয়ারণ্য তৈরির নির্দেশনা চেয়ে অনুরোধ করেছেন পিটিশনকারীরা।

আইনজীবীরা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে গাজীপুরে জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র‌্যাব-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি তুলা কারখানাকে অবৈধ জবাইখানা হিসেবে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া, আটটি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুত বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়। তারা অপুষ্টি, সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা সংক্রমণ, টিউমারসহ নানা রোগ ও জটিলতায় ভুগছিল। জবাই করা এসব ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাক দূষণ ও সন্দেহজনক যক্ষ্মার উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

পিটিশনকারীরা আদালতে উল্লেখ করেন, গাজীপুরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং জব্দ করা অসুস্থ ঘোড়াগুলো পুনরায় নিলামের মাধ্যমে বিক্রির খবর পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

অভিনেত্রীআইনঘোড়ার মাংসজয়া আহসানবাণিজ্যহাইকোর্ট