নারীর অপ্রস্তুত মুহুর্তই যখন কনটেন্ট

ফেসবুকের কতটি পেজে কতটি অশালীন ভিডিও, ছবি, কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া এখন কঠিন আর এইসব পেজের মূল টার্গেট অপ্রস্তুত মুহূর্তের নারী। সম্মতি ছাড়া ধারণ করা এমন অসংখ্য ছবি-ভিডিওই ছড়িয়ে আছে অনলাইনে, সেগুলো লাখ লাখ বার দেখাও হচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে প্রোফাইলগুলোর আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মনস্তাত্ত্বিক কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্যের অজান্তে ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখার মাধ্যমে আনন্দ পাওয়া বা ভয়্যারিজম একধরনের বিকৃতি।
নারীদের অপ্রস্তুত মুহূর্তের ভিডিও এবং ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে, এমন বেশ কিছু পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারীদের অজান্তে ধারণ করা ভিডিও সেখানে নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে। বেশির ভাগ ভিডিওতেই রয়েছে বাড়ির ছাদ বা উঁচু স্থান থেকে নিচে অবস্থান করা নারীদের ধারণ করা, দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত বা চলাচলের পথে নারীরা অপ্রস্তুত অবস্থার দৃশ্য। এসব পোস্টে অনেক মন্তব্যকারীর ভাষাও অশালীন।
ফেসবুকে বেশ কিছু ব্যক্তিগত প্রোফাইল (প্রফেশনাল মোড চালু) শনাক্ত করা গেছে, যা পেজের মতো ব্যবহার করে নিয়মিত কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। প্রোফাইলগুলোতে প্রায় হাজার হাজার অনুসারী (ফলোয়ার) আছে। এইসব প্রোফাইলে নারীদের অসতর্ক মুহূর্তের ভিডিও অশালীন ক্যাপশন দিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা হয়। একজন নারী কল থেকে পানি নিচ্ছেন, পেছন থেকে জুম করে ওই নারীর ছবি নেওয়া হয়েছে। কেউ বসে চুলায় কাজ করছেন, সেই স্থিরচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে প্রোফাইলটিগুলোতে। ‘ভাবি’ উল্লেখ করে কোনো কোনো নারীর ছবিতে অশালীন ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে। এমন অশালীন ও ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশনে ভিডিও দেখার হারও বেশি হতে দেখা গেছে। এইসব অশালীন ক্যাপশনের ভিডিও লাখ লাখ বার দেখা হচ্ছে। কোনো কোনো কনটেন্টের ভিউ মিলিয়নও (১০ লাখ) ছাড়িয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬–এর ২৫ ধারায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ–সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ডের উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হবে। ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তির মাত্রা বেশি হবে। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হবে। সামাজিক বাধার কারণে অনেক নারী ও তাদের পরিবার অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না। অনেকে আবার তাদের ভিডিও গোপনে ধারণ ও প্রচারের বিষয়টি জানেনও না। এই বিকৃত চর্চার জন্য সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার শূন্যতাকেও দায়ী। এই শূন্যতার স্থানটি দখল করছে ডিজিটাল জগৎ। এতে নানা বিকৃতি বাড়ছে, বিশেষ করে নারীদের অজান্তে ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করা।এটির প্রতিকারে ক্ষতিকর কৌতূহল ও কৌতুক থেকে বিরত থাকা জরুরি। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর মর্যাদা ও মূল্যবোধ শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।



