চাঁদের কক্ষপথে ক্রিস্টিনা কোচ

চার নভোচারী নিয়ে নাসার আর্টেমিস-২ নভোযান চাঁদের দিকে রওনা দিয়েছে। চারজনের মধ্যে অন্যতম হলেন মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ২টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে আর্টেমিস-২ তার যাত্রা শুরু করে। গত ৫৩ বছরের মধ্যে এটি চাঁদের দিকে মানুষের প্রথম যাত্রা। অন্যান্য নভোচারীরা হলেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার ও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে নভোচারী পাঠানো হয়। ওই অভিযানের পর এবারই প্রথম নতুন করে মানুষ্যবাহী যান চাঁদের অভিমুখে যাত্রা করে।
ক্রিস্টিনা হ্যামক কোচ একজন মার্কিন প্রকৌশলী এবং নাসার মহাকাশচারী। তিনি নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বৈদ্যুতিক প্রকৌশল ও পদার্থবিদ্যায় বিজ্ঞানের স্নাতক এবং বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে কাজ করার সময় মহাকাশ বিষয়ক গবেষণাও করেছেন। এছাড়া এর আগে তিনি মার্কিন সামোয়ার স্টেশন প্রধান হিসেবে ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে কাজ করেছেন।ক্রিস্টিনা কোচ ২০১৯ সালে টানা ৩২৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করে নারীদের মধ্যে দীর্ঘতম সময় মহাকাশে থাকার রেকর্ড গড়েন।অন্য নভোচারীদের মধ্যে রিড ওয়াইজম্যান ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৬৫ দিন কাটিয়েছেন। ভিক্টর গ্লোভার ২০২০ সালে স্পেসএক্সের ক্রু-১ মিশনে অংশ নিয়ে ১৬৮ দিন মহাকাশে ছিলেন। অন্যদিকে জেরেমি হ্যানসেনের এটি প্রথম মহাকাশযাত্রা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানতে চেয়েছিলেন- ‘এই ঐতিহাসিক সফরে সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অংশ কোনটি?’
এর উত্তরে নভোচারী রিড জানান- ‘আমরা এমন দৃশ্য দেখেছি, যা আগে মানুষ দেখেনি—এমনকি অ্যাপোলো অভিযানের সময়ও নয়। আমাদের জন্য এটি ছিল সত্যিই বিস্ময়কর’
হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, ক্রিস্টিনা কোচ উল্টো হয়ে ‘বাদুড়ের মতো ঝুলে’ ঘুমাচ্ছেন।’



