বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
নারী

শতবর্ষী নারী জিন বাওলিং: ৫০ বছরে কখনো যাননি হাসপাতালে

prothomalo-bangla_2026-03-14_mgj05t8a_Capture

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌ অঞ্চলের একটি ছোট্ট গ্রামে বসবাস করেন ১০২ বছর বয়সী জিন বাওলিং। সম্প্রতি তাঁর জীবনযাপনের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে এবং অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করেছে।

হাসিখুশি স্বভাবের জিন গ্রামবাসীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তাঁকে সবাই আদর করে ‘ওল্ড বেবি’ নামে ডাকেন। বয়সের ভার সত্ত্বেও তিনি এখনো মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ ও শারীরিকভাবে সুস্থ। গত ৫০ বছরে তাঁকে একবারও হাসপাতালে যেতে হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

জিনের দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক। তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টায় ঘুম থেকে ওঠেন এবং কিছু সময় বাগানে রোদে বসে কাটান। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই রাতের খাবার শেষ করে তিনি ঘুমাতে যান। দিনের মাঝেও তিনি কিছু সময় বিশ্রাম নেন। তাঁর ছেলে হু হুয়ামেই জানান, জিন দিনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারেন।

খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। সকালের নাশতায় তিনি ডাম্পলিং ও বান খান। দুপুর ও রাতের খাবারে থাকে নুডলস বা ভাত, আর মাংস তাঁর সবচেয়ে পছন্দের খাবার—প্রতিদিনই তিনি মাংস খান। পাশাপাশি তিনি কেক, রুটি এবং বাদামি চিনি ও লাল খেজুর দিয়ে তৈরি চা পান করেন। প্রতিদিন তিনটি কমলা ও দুটি ডিম খাওয়ার অভ্যাসও রয়েছে তাঁর। যদিও সবজি তিনি খুব একটা পছন্দ করেন না, তবে নিয়মিত রাইস ওয়াইন পান করেন।

Advertisements

চলাফেরায় কিছুটা সহায়তা প্রয়োজন হলেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি এখনো বেশ ভালো। তিনি নিজ হাতে মোজা বুনতে এবং জুতা মেরামত করতে পারেন।

জিনের সুস্বাস্থ্যের রহস্য হিসেবে তাঁর ছেলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁর ইতিবাচক মানসিকতাকে। তিনি কখনো কারও সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ান না এবং যেকোনো সমস্যাকে সহজভাবে এড়িয়ে যান। পরিবারের শান্তি ও সুখই তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

সরল জীবনযাপন, নিয়মিত অভ্যাস এবং প্রফুল্ল মানসিকতা—এই তিনের সমন্বয়েই জিন বাওলিং হয়ে উঠেছেন সুস্থ ও দীর্ঘায়ুর এক জীবন্ত উদাহরণ।

Advertisements
১০২ বছর বয়সীচীনজিন বাওলিংশতবর্ষীসুস্বাস্থ্য