বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
বিশ্লেষণ

প্রিয় পোষ্যের টানে শেষ যাত্রা, জীবনের চেয়েও বড় যেখানে মায়া

download

ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। নিস্তব্ধ শহরের আকাশে এক ধরনের নরম বিষণ্ণতা। ঠিক সেই সময়, এক ছোট্ট প্রাণের খোঁজে ছাদে উঠে যান বন্যা কস্তা। হয়তো প্রতিদিনের মতোই আদরের ডাকে সাড়া দিয়ে কোলে ফিরে আসবে তার প্রিয় বিড়ালটি—এই বিশ্বাসই ছিল মনে। কিন্তু সেই খোঁজই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

একটি পোষা প্রাণী—হয়তো অনেকের কাছে শুধুই একটি বিড়াল, একটি কুকুর। কিন্তু যার ঘরে সে থাকে, তার কাছে সে নিছক প্রাণী নয়, পরিবারেরই একজন। তাদের নিঃশব্দ উপস্থিতি, নরম পায়ের শব্দ, কিংবা আদুরে চাহনি—সব মিলিয়ে তারা হয়ে ওঠে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বন্যা কস্তার ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের সামনে তুলে ধরে মানুষ আর পোষা প্রাণীর গভীর, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক নির্মম বাস্তবতা।

নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রিয় প্রাণটিকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়া—এ যেন মায়ের সন্তানের প্রতি ভালোবাসারই আরেক প্রতিচ্ছবি।

Advertisements

অনেক সময় মানুষ যখন একাকিত্বে ভোগে, তখন এই পোষা প্রাণীরাই হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে কাছের সঙ্গী। তারা কথা বলতে পারে না, কিন্তু অনুভব করতে পারে—দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ সবই যেন নীরবে ভাগ করে নেয়। একটি বিড়াল যখন মালিকের পাশে এসে চুপচাপ বসে থাকে, সেটি কেবল বসে থাকা নয়—এটি এক ধরনের সান্ত্বনা, এক নিঃশব্দ সহানুভূতি।

বন্যা কস্তা ও তার স্বামী ছিলেন নিঃসন্তান। হয়তো সেই শূন্যতাটুকু পূরণ করেছিল এই ছোট্ট প্রাণটি। তাই তো ভোরের ঘুম ভেঙে, নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে, ছুটে গিয়েছিলেন তার খোঁজে। সেই টান, সেই মমতা—এমনই যে, নিজের জীবনকেও তুচ্ছ মনে হয় কখনো কখনো।

কিন্তু এই ঘটনাটি আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা যেমন গভীর, তেমনি আমাদের দায়িত্বও ততটাই বড়। পোষা প্রাণীর যত্ন নিতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ, একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি জীবনই কেড়ে নেয় না, ভেঙে দেয় একটি পরিবার, ছিন্ন করে অসংখ্য সম্পর্কের সুতোর বন্ধন।

বন্যা কস্তার এই বিদায় তাই শুধুই একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি আমাদের শেখায় ভালোবাসার শক্তি কতটা গভীর হতে পারে, আবার একই সঙ্গে সতর্ক করে—ভালোবাসার মাঝেও সচেতনতা কতটা প্রয়োজন।

শেষ পর্যন্ত, মানুষের সঙ্গে পোষা প্রাণীর সম্পর্কটি আসলে এক নিঃস্বার্থ মমতার গল্প। যেখানে ভাষা নেই, তবুও বোঝাপড়া আছে; দাবি নেই, তবুও ভালোবাসা আছে। আর সেই ভালোবাসাই কখনো কখনো এমন এক আত্মত্যাগের গল্প লিখে যায়, যা আমাদের চোখ ভিজিয়ে দেয়, হৃদয়কে নীরব করে দেয়।

Advertisements
প্রিয় পোষ্যেমায়াশেষ যাত্রা