থেরিয়ান: ব্যক্তি মানুষ হলেও অনুভব করেন কুকুর, বিড়াল অথবা ওয়্যারউলফ প্রাণীর আত্মিক বা মানসিক সত্তা

“থেরিয়ান” শব্দটি ইংরেজি Therian থেকে এসেছে। এটি এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি বিশ্বাস করেন বা অনুভব করেন যে তাঁর মানসিক, আত্মিক বা অভ্যন্তরীণ পরিচয় কোনো প্রাণীর সাথে গভীরভাবে যুক্ত। অর্থাৎ, তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ মানুষ মনে করলেও নিজের ভেতরে কোনো নির্দিষ্ট প্রাণীর সত্তা অনুভব করেন। এই ধারণাটি “Therianthropy” শব্দের সাথে সম্পর্কিত। Therian শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ “therion” থেকে, যার অর্থ বন্য প্রাণী।
থেরিয়ানরা মাঝে মাঝে প্রাণীর মতো আচরণ, অনুভূতি বা প্রবৃত্তি অনুভব করেন। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি নিজেকে নেকড়ে-সত্তার সাথে সংযুক্ত মনে করেন, তাহলে তাকে “wolf therian” বলা হয়। আবার কেউ যদি বিড়াল বা পাখির সাথে সংযুক্ত অনুভব করেন, তবে তার পরিচয় ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু থেরিয়ানরা বাস্তবে শারীরিকভাবে প্রাণীতে রূপান্তরিত হন না। এটি পুরোপুরি মানসিক বা আত্মিক অনুভূতির বিষয়।
থেরিয়ান আন্দোলন এর উৎপত্তিকাল হল ১৯৯০-এর দশকে ইউজনেট ফোরাম এবং নিউজগ্রুপ। বিখ্যাতদের মতে, প্রথমে ওয়্যারউলফের গল্পের ভক্তদের জন্য তৈরি করা এই স্থানটি শেষ পর্যন্ত এমন লোকদের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল যারা দাবি করেছিলেন যে তারা কাল্পনিক নয় বরং আধ্যাত্মিক বা মানসিক স্তরে নেকড়েদের মতো অনুভব করেন।
সাম্প্রতিক এক রোববার, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে একটি প্লাজা যেন অস্থায়ী জঙ্গলে পরিণত হয়েছিল। সেখানে কুকুর, বিড়াল, শিয়ালসহ আরও নানা প্রাণী এদিক–ওদিক ঘোরাঘুরি করছিল। এসব কুকুর, বিড়াল বা শিয়াল—কেউই আসল পশু নয়। একদল কিশোর–কিশোরী সেদিন এসব প্রাণীর মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এসেছিলো ১৫ বছর বয়সী আগুরা। সে বেলজিয়ান কুকুরের মুখোশ পরে ছিল। এই কুকুর যেভাবে বাতাসে লাফিয়ে ওঠে, যেভাবে বাধা অতিক্রম করে, সেও ঠিক নিখুঁত অনুকরণে সেভাবে লাফালাফি, দৌড়ঝাঁপ করছিল। অন্যদের কেউ কেউ বিড়াল বা শিয়াল সেজে এসেছিল। কয়েকজন গাছের ডালে বসে ছিল। কৌতূহলী লোকজনের থেকে দূরে তারা গাছে চড়ে ছিল। এরা সবাই ‘থেরিয়ান’। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আর্জেন্টিনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধারা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে টিকটকে। কিশোর–কিশোরীদের এমন আচরণ মা–বাবার জন্য উদ্বেগের কারণ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বুয়েনস এইরেসের মনোবিজ্ঞানী দেবোরা পেদাসে বলেন, মানসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একধরনের প্রতীকী প্রাণী পরিচয়।সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন কেউ গভীরভাবে এই পরিচয়কে গ্রহণ করে এবং সম্পূর্ণভাবে প্রাণীর ভূমিকা নেয়, যা আত্মহানির বা অন্যের ক্ষতি করার ঝুঁকি বাড়ায়।
থেরিয়ান হওয়া কি মানসিক রোগ?
থেরিয়ান হওয়া সাধারণত কোনো মানসিক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয় না। এটি একটি ব্যক্তিগত পরিচয় বা আত্ম-অনুভূতির বিষয়। অধিকাংশ থেরিয়ান ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন — পড়াশোনা, চাকরি, পরিবার সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করেন। তবে যদি কারও এই অনুভূতি তার দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা ভালো।



