বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
বিশ্লেষণ

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতির তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতির তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

বাংলাদেশে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। সবশেষ ১৯৩০ সালে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে—এরপর কেটে গেছে প্রায় এক শতাব্দী। তারও আগে ৬৫ বছরের মধ্যে ছয়বার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট করে সময় বলা না গেলেও দীর্ঘদিন ধরে চাপ সঞ্চিত থাকা টেকটনিক প্লেট যেকোনো সময় বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করতে পারে। তাই এখনই অবকাঠামোকে ভূমিকম্প-সহনীয় করে তোলাই সবচেয়ে জরুরি প্রস্তুতি।

গত ২১ নভেম্বর দেশের ভেতরে নরসিংদী অঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এটি ইন্দো-বার্মা টেকটনিক প্লেটের অংশে সংঘটিত হয়েছিল এবং এতে কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে। এর মাত্র তিন মাস পর গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সারাদেশ।

চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই ১০ দফা ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছে—গড়ে প্রায় দুই দিনে একটি। এত ঘনঘন কম্পন কি বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস?

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বারবার যদি ভূমিকম্প হয়, আমরা জানি প্লেট বাউন্ডারিতে গেলে সেখানে শক্তি সৃষ্টি হয়। শক্তিগুলো জমা হতে হতে যদি আর জায়গা না পায় তখন সেটা বিস্ফোরণ ঘটে, শক্তিটুকু বের হয়ে আসে। এমতাবস্থায় বারবার যদি এরকম বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেখানে মনে হয় যে একটা বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।

Advertisements

তিনি আরও বলেন, ভবনগুলোর বিল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট বা কাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই জরুরি। প্রকৌশলীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং বাড়ির মালিকদের সচেতন করতে হবে। নচেৎ ঝুঁকি থেকেই যাবে।

উল্লেখ্য, ১৮৯৭ সালের ১২ জুনের ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ ছিল ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের পাশ দিয়ে যাওয়া বড় প্লেট বাউন্ডারি এবং অভ্যন্তরীণ ও নিকটবর্তী ফল্ট লাইনে প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ বছর পরপর ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হতে পারে। এমনকি ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প ২৫০ থেকে এক হাজার বছর পরপর ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ২১ লাখ ভবন, যার প্রায় ৩০ শতাংশ ছয়তলার বেশি। এসব ভবনের ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প-সহনীয় নয়। সারাদেশে শত শত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামো রয়েছে, যা বড় ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ছোট ছোট ভূমিকম্প নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। তবে অতীতে সংঘটিত বড় ভূমিকম্পগুলোর ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয় কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। তাই সময় থাকতে ভবন শক্তিশালীকরণ, নতুন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোই এখন প্রধান করণীয়।

Advertisements
বাংলাদেশভূমিকম্প