অবশেষে মেয়েদের বিপিএলের ঘোষণা দিল বিসিবি — নারী ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা

বহু বছরের প্রতীক্ষা ও দাবি শেষে আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে দেশের প্রথম নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা ডব্লিউবিপিএল (WBPL)–এর আয়োজনের। এটি নারীদের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক প্রথম টুর্নামেন্ট যা নারীর ক্রিকেটকে পেশাদার ও আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে নেওয়া এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
নারী ক্রিকেটারদের এই দাবিটা ছিল অনেক দিনের। কিন্তু বিসিবি বেশ কয়েকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও মেয়েদের পরে সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে আগামী ৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত হবে ডব্লিউবিপিএল ২০২৬- এর ম্যাচগুলো।
এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড় নির্বাচন হবে প্লেয়ার্স ড্রাফট পদ্ধতির মাধ্যমে যাতে দেশসেরা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি উদীয়মান স্থানীয় প্রতিভারাও সুযোগ পাবে। দলগুলো চাইলে বিদেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের খেলানোর অনুমতি পাওয়া যাবে যা টুর্নামেন্টের মান ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে।
WBPL–এর গভর্নিং কাউন্সিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান রুবাবা দৌলা–কে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, মেয়েদের এই টুর্নামেন্ট মাত্র প্রতিযোগিতা নয় বরং নারীর ক্রিকেটকে পেশাদার ও সার্বিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার একটি বড় সুযোগ। তিনি বলেন, আমরা তিনটি দল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট করব। মেয়েদের ক্রিকেটে এটা একটা ভাল সুযোগ হবে। দলগুলো চাইলে বিদেশি ক্রিকেটারদেরও আনতে পারবে। আমি চাই এমন মালিক নিয়োগ করা হোক যারা অন্তত কয়েক বছর দলের সঙ্গে থেকে নারী ক্রিকেট উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জানালেন, বেশ কয়েক বছর ধরে মেয়েদের বিপিএল হবে—এই কথা চলছিল। গত বছরও প্রায় হত কিন্তু হয় নি তবে এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পেয়ে সত্যি অনেক ভালো লাগছে।
এই টুর্নামেন্ট নারী ক্রিকেটারদের জন্য কেবল এক জয়জয়কারের সংবাদ নয়—এটি বাংলাদেশে নারীর খেলাকে পেশাদারভাবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি শক্ত ভিত্তি। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিভাদের এক জায়গায় এনে এই টুর্নামেন্ট নারীদের ক্রিকেটকে ব্যাপক দর্শক, স্পনসর, মিডিয়া ও পেশাদার সুযোগে সমৃদ্ধ করবে।
বিশেষত, আগামী জুন মাসে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ–এর আগে একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা খেলার সুযোগে এই লিগ জাতীয় দলের প্রস্তুতিতেও ভূমিকা রাখবে বলে বোঝা যাচ্ছে।



